বিশ্বকাপ জেতানোর মাত্র তিন মাস পরেই ছাঁটাই!

ভারতীয় ক্রিকেটে এক চরম এবং নজিরবিহীন নাটকীয়তার জন্ম হলো। ঘরের মাঠে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানোর মাত্র তিন মাস পরেই অধিনায়কত্ব খোয়াতে হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবকে। শুধু তা-ই নয়, ক্রিকেট মহলে বড়সড় বোমা ফাটিয়ে জানা গেছে, আগামী দিনে ভারতীয় দলেও আর জায়গা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এই ড্যাশিং ব্যাটারের। চলতি মাসের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের ঠিক আগেই টিম ইন্ডিয়াতে এই বড় ধরণের পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে।

বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচক কমিটির সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর একজন নতুন অধিনায়ক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, নির্বাচক কমিটি, বিসিসিআই এবং টিম ম্যানেজমেন্ট কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতীয় দলের এখন থেকে একজন নতুন অধিনায়কের অধীনে খেলা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সূর্যের অধিনায়কত্বে দল অবশ্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম এবং দলের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এটাই এগিয়ে যাওয়ার সঠিক সময়। ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সূর্যকে আর আসন্ন সিরিজগুলোর জন্য বিবেচনা করা হবে না এবং এই কঠোর সিদ্ধান্তটি খুব শিগগিরই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে রোহিত শর্মা টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেয়ার পর ভারতের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ব্যাটন উঠেছিল সূর্যকুমারের হাতে। কিন্তু গত দুই বছর ধরেই তাঁর ব্যাটে রানের খরা এবং অতি সাধারণ পারফরম্যান্স নির্বাচকদের চরম চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।

বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ আইপিএল মৌসুমে তাঁর ফর্মের গ্রাফ একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে একটি হাফ-সেঞ্চুরি করলেও, পুরো মৌসুমে ১৩টি ইনিংসে মাত্র ২০.৭৬ গড়ে ২৭০ রান করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি, যা তাঁর নামের পাশে বড্ড বেমানান।

এমনকি গত মার্চ মাসে যখন তাঁর নেতৃত্বে ভারত তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল, তখনও সূর্যের ব্যক্তিগত ব্যাটিং পারফরম্যান্স তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। অথচ ট্রফি জেতার পর এই সংবাদমাধ্যমকেই নিজের অফ-ফর্ম নিয়ে সূর্য বলেছিলেন, অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি কখনোই নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবিনি। আমার সাথে সবসময় আরও ১৪ জন মানুষ থাকে, তাঁদের দেখভাল করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দল জিতছিল, তাই আমি জানতাম আমি সঠিক পথেই আছি এবং রানও ঠিক চলে আসবে। ২০২৪ সালের সেই বিখ্যাত ক্যাচটি (বিশ্বকাপ ফাইনালে) আমার জীবন বদলে দেয়। আর এবার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর আমার মনে হচ্ছে জীবনটা আবারও বদলে যাবে।

সূর্যের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলো ঠিকই, তবে তা এক চরম ট্র্যাজেডির রূপ নিয়ে! জীবন সত্যিই বদলে গেল, কিন্তু তা রাজকীয় সিংহাসন থেকে দলছুট হওয়ার এক নির্মম বাস্তবতায়। বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়ার পরেও ফর্মের কারণে এভাবে কোনো অধিনায়ককে দল থেকে ছেঁটে ফেলার ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল। এখন দেখার বিষয়, মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রির এই আকস্মিক বিদায়ের পর গৌতম গম্ভীর ও বিসিসিআই কার হাতে তুলে দেয় টিম ইন্ডিয়ার নতুন টি-টোয়েন্টি সাম্রাজ্যের দায়িত্ব।