ফুটবল বিশ্বে আরও একবার মহাপ্রলয়! চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কেটে নিলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এই হারের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল আজ্জুরিরা, যা ইতালিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দুঃস্বপ্ন। অন্যদিকে, প্রাগের কনকনে ঠাণ্ডায় ডেনমার্ককে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হারিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরল চেক প্রজাতন্ত্র।
জেনিৎসার মাঠে শুরুটা ইতালির জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। ১৫ মিনিটে ময়েস কিনের দর্শনীয় কার্লিং শটে লিড নেয় তারা। কিন্তু ৪১ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ১০ জনের ইতালির ওপর চড়াও হয় বসনিয়া। বিরতির পর হারিস তাবাকোভিচ জটলার ভেতর থেকে গোল করে সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়েও ফল না আসায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়ে ইতালি; তারা প্রথম ও তৃতীয় শট মিস করলে এস্মির বাজরাকতারেভিচ জয়সূচক গোলটি করে বসনিয়াকে নিয়ে যান গ্রুপ 'বি'-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতার। ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালির জন্য এটি এক চরম লজ্জা, যা গাত্তুসোর শিষ্যদের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ফেলে দিল।
চেক প্রজাতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন: প্রাগে চেক প্রজাতন্ত্র ও ডেনমার্কের লড়াই ছিল সত্যিকারের এক থ্রিলার। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই পাভেল সুলকের দারুণ ভলিতে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। তবে ৭২ মিনিটে ডেনমার্কের জোয়াকিম অ্যান্ডারসেন হেডে সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে লাদিস্লাভ ক্রেজচি চেকদের আবারও এগিয়ে নিলেও ১১১ মিনিটে ক্যাসপার হগের গোলে নাটকীয়ভাবে ২-২ সমতা ফেরায় ডেনমার্ক্র।
শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ডেনমার্কের রাসমাস হজলুন্দ ক্রসবারে মারেন এবং ম্যাথিয়াস জেনসেন বল উড়িয়ে দেন মাঠের বাইরে। চেক গোলরক্ষক মাতেজ কোভারের দৃঢ়তায় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। এই জয়ের ফলে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেল চেক প্রজাতন্ত্র। তারা জায়গা করে নিয়েছে গ্রুপ 'এ'-তে, যেখানে তাদের লড়তে হবে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
ইতালির মতো জায়ান্টদের বিদায় এবং চেক ও বসনিয়ার মতো লড়াকু দলগুলোর উত্থান ২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলল। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞে ইতালির নীল জার্সি দেখা যাবে না- এটি যেমন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বেদনার, তেমনি বসনিয়ার মতো উদীয়মান শক্তির জন্য এটি এক বিশাল জয়ের গল্প। চেক প্রজাতন্ত্রের রক্ষনাত্মক দেয়াল আর ডেনমার্কের দুর্ভাগ্য প্রাগের রাতকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী করে রাখল।