মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচ জুড়ে বোতলবন্দি করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের মুকুট মাথায় তুলেছেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের বিশ্বসেরা সব ফরোয়ার্ডদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়ে স্পেনের এই বিশ্বস্ত বাজপাখি জিতে নিয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ পুরস্কার।
লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজদের একের পর এক আক্রমণকে স্প্যানিশ ডিফেন্সের শেষ প্রহরী হিসেবে যেভাবে তিনি নস্যাৎ করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে এক রূপকথা হয়ে থাকবে।
পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচে উনাই সিমন যা করে দেখিয়েছেন, তা এর আগে ফুটবল ইতিহাস কখনো দেখেনি। সোফাস্কোরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টের আটটি ম্যাচ খেলে সিমন গোল হজম করেছেন মাত্র ১টি! শুধু তাই নয়, ৮ ম্যাচের মধ্যে ৭টি ম্যাচেই তিনি নিজের গোলপোস্টকে অক্ষত রেখে ‘ক্লিন শিট’ আদায় করেছেন।
পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর সেভ পার্সেন্টেজ ছিল আকাশচুম্বী- ১০০ শটের মধ্যে ৯০.৯টি শটই তিনি রুখে দিয়েছেন! বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে কোনো দলই সিমন ও তাঁর স্প্যানিশ আর্মাডার মতো এত কম গোল হজম করে বিশ্বজয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের এই নিরেট ডিফেন্স রেকর্ড বুককে নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছে।
ফাইনালে যখন গোল করার জন্য হন্যে হয়ে উঠেছিল আর্জেন্টিনা শিবির, তখন গোলপোস্টের নিচে বরফশীতল মাথা আর চিতার মতো ক্ষিপ্রতা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন উনাই সিমন।
কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে চোখের সামনে রেখে, তাঁরই নাকের ডগা দিয়ে গোল্ডেন গ্লাভসটি বগলদাবা করলেন সিমন। স্পেনের টিকিটাকা ফুটবলের আক্রমণভাগ যদি ম্যাচের নায়ক হয়, তবে উনাই সিমন ছিলেন পর্দার পিছনের সেই আসল পরিচালক, যার বিশ্বস্ত হাতের ওপর ভরসা করেই ফাইনালে ১-০ গোলের জয় ছিনিয়ে এনেছে স্পেন।
ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই গুঞ্জন, স্পেনের এই রক্ষণভাগ আর গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমনের মতো চীনের প্রাচীর থাকলে, যেকোনো দলের জন্যই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন শুধু ‘মিশন ইম্পসিবল’!
