মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে স্পেনের ট্রফি উদযাপনের রাতেই বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো আরও এক সোনালী ইতিহাস। রোববারের সেই রক্তক্ষয়ী ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক, ১৯ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি জিতে নিয়েছেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ইয়ং প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’ বা সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের রাজকীয় পুরস্কার।
ফাইনালের একদম শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের সেই মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়েও মাঠ কাঁপানো এই বার্সেলোনা তারকা আজ পুরো ফুটবল বিশ্বের নয়নমণি।

মাত্র ১৯ বছর ১৭৮ দিন বয়সে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি বগলদাবা করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন কুবার্সি। ২০০৬ সালে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অফিশিয়াল ইয়ং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড চালু করার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলে এত কম বয়সে কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেনি। টু
র্নামেন্টের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত স্প্যানিশ আর্মাডাদের রক্ষণের মূল স্তম্ভ ছিলেন এই তরুণ তুর্কি। লা রোজাদের হয়ে বিশ্বকাপের সব কটি (৮টি) ম্যাচই তিনি শুরু থেকে খেলেছেন। স্পেনের ডিফেন্স যে পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষদের কালঘাম ছুটিয়ে মাত্র ১টি গোল হজম করেছে, তার পেছনে এই ১৯ বছরের বালকের পরিণত ফুটবল ও ইস্পাত কঠিন মানসিকতাই ছিল সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর।

পাউ কুবার্সির জন্য রেকর্ডের খাতা ওলটপালট করা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্পেনের জাতীয় দলের জার্সিতে যখন তাঁর অভিষেক হয়েছিল, তখনই তিনি স্প্যানিশ ফুটবল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ডিফেন্ডার হিসেবে খেলার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
আর তার মাত্র দুই বছরের মাথায়, কৈশোরের গণ্ডি পেরোতে না পেরোতেই লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজদের মতো বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দি করে কুবার্সি আজ বিশ্বজয়ী এবং একই সাথে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলার।
বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে যেখানে বড় বড় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা চাপের মুখে ভেঙে পড়েন, সেখানে ১৯ বছরের এই স্প্যানিশ প্রাচীর যেভাবে পুরো আসরে স্পেনের গোলপোস্টের সামনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে রইলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য ও চোখ ধাঁধানো। মেসিদের আক্রমণভাগকে অচল করে দেওয়া কুবার্সির এই পারফরম্যান্স আগামী বহু বছর ধরে এক রূপকথা হিসেবে চর্চা হবে, তা বলাই বাহুল্য!
