মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই স্নায়ুক্ষয়ী মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাতে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের মুকুট মাথায় তুললেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে মাঝমাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করার পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন বল’ নিজের বগলদাবা করেছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ড জেনারেল। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় জয়ের পর ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি এই পুরস্কার রদ্রিকে বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে বসিয়ে দিল।
তথ্যের খাতিরে জানিয়ে রাখা ভালো, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট' না, বরং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জিতেছেন রদ্রি।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার আলমিরা সজ্জার মূল কাণ্ডারি লিওনেল মেসিকে রুখে দেওয়ার পেছনের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই ম্যানচেস্টার সিটি মায়েস্ট্রো।
পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে হাহাকার তোলা মেসিকে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ব্যক্তিগত বিশ্বকাপ ট্রফি (গোল্ডেন বল) ছুঁয়ে দেখতে দেননি রদ্রি। মাঝমাঠের দখল নিজের পায়ে রেখে মেসিকে বোতলবন্দি করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অমর অল-টাইম রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রি একাই রেকর্ডসংখ্যক ৬৫৫টি নিখুঁত পাস সম্পন্ন করেছেন! স্পেনের রক্ষণভাগ যে পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে মাত্র ১টি গোল খেয়েছে, তার পেছনের আসল কারিগর ও ডিফেন্সিভ মেরুদণ্ড ছিলেন এই স্প্যানিশ অধিনায়ক।
২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পর ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ, স্পেনের এই অবিশ্বাস্য বিজয়ের নেপথ্যে রদ্রির অবদান ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সোনা দিয়ে লেখা থাকবে। ট্যাকটিক্যাল কন্ট্রোল, নিখুঁত পাসিং আর চিতার মতো ডিফেন্সিভ ট্যাকল দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মিডফিল্ড জেনারেল বলা হয়।
মেসির পায়ে জাদুর ছোঁয়া থাকতে পারে, কিন্তু রদ্রির পায়ে ছিল পুরো ম্যাচের রিমোট কন্ট্রোল! আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্নকে মাঝমাঠেই কবর দিয়ে সোনার বল হাতে রদ্রির এই রাজকীয় হাসি ফুটবলপাড়ায় আগামী বহু বছর ধরে এক রসালো আলোচনা হিসেবে টিকে থাকবে!
