ইরানি ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় কোচ

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর দীর্ঘদিনের ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব, এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আগে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে ইরানের ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘পার্সিয়ান গালফ প্রো লিগ’ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।

ফলে গত প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে নেই। এই পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের ম্যাচ ফিটনেস আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনতে তুরস্কের আনতালিয়াতে একটি বিশেষ ফিটনেস ক্যাম্প শুরু করেছে ইরান।

গত শনিবার বিশ্বকাপের জন্য ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন ইরানের হেড কোচ আমির ঘালেনোয়েই। এই ৩০ জনের মধ্যে ২২ জনই খেলেন ইরানের বিভিন্ন ঘরোয়া ক্লাবে। গত মার্চের শেষভাগে আনতালিয়াতেই কোস্টারিকা ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পর থেকে এই স্থানীয় ফুটবলাররা তেহরানের একটি জাতীয় ক্যাম্পে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় খেলোয়াড়দের বর্তমান ফিটনেস ও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন কোচ ঘালেনোয়েই। তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের অফিশিয়াল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির মাত্রা নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। তবে তুরস্কে আমাদের যে আড়াই থেকে তিন সপ্তাহের ক্যাম্প রয়েছে, সেটি দিয়ে আমরা ফিটনেসের এই ঘাটতির প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুষিয়ে নিতে পারব।

তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের আধুনিক ফুটবলের জন্য প্রয়োজনীয় স্তরে উন্নীত করতে হবে। বয়সের দিক থেকে আমাদের স্থানীয় ফুটবলাররা বেশ ভালো অবস্থানে আছে, তবে পারফরম্যান্সের কিছু জায়গায় এখনো অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। আমাদের অত্যন্ত দৃঢ়তা ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে তুরস্কের ক্যাম্পে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

Iran Coach
সোমবার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের শহর আনতালিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই দিন সন্ধ্যায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে নিজেদের প্রথম অনুশীলন সেশন শেষ করেছে টিম ইরান। মঙ্গলবারও দল মাঠে ঘাম ঝরিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা আনতালিয়ার একটি ট্রেইনিং গ্রাউন্ডে গা গরম করার পাশাপাশি বল নিয়ে কঠোর অনুশীলন করছেন।

পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিসা সংক্রান্ত নানা জটিলতা থাকলেও, এই ট্রেইনিং ক্যাম্পটিকেই এখন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখছেন কোচ।

চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে ২৯ মে দ্য গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইরান। এরপর ১ জুনের মধ্যে ফিফার বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন অনুযায়ী প্রাথমিক ৩০ জনের দল থেকে ছেঁকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন ঘালেনোয়েই। এছাড়া ইরান ফুটবল ফেডারেশন তুরস্কে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তুরস্কের মিশন শেষ করে জুন মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নিজেদের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইরানি দলের। সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং আমেরিকার মাটিতে প্রবেশ করতে কোনো আইনি জটিলতা না হলে, পুয়ের্তো রিকোর বিরুদ্ধে ক্লোজড-ডোর (দর্শকহীন) একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।

কোচ ঘালেনোয়েই আশা করছেন, বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার অন্তত ৪-৫ দিন আগেই দল শতভাগ শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ জি’-তে থাকা ইরানের মূল অভিযান শুরু হবে ১৫ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে শক্তিশালী বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হয়ে তারা গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ করবে।