ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সে নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে উত্তর আমেরিকার মঞ্চে নামতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার, সিদাদে দো ফুতবলের এক ঠাসা মিলনায়তনে পর্তুগালের হেড কোচ রবার্তো মার্তিনেস আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। মার্তিনেস মূলত ২৭ সদস্যের দল ঘোষণা করলেও, এই দলে রয়েছে এক আবেগঘন ‘প্লাস ওয়ান’ ফর্মুলা, যা উৎসর্গ করা হয়েছে দলটির প্রয়াত ফরোয়ার্ড ডিওগো জোতাকে।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পর্তুগাল দলকে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের অন্তত পাঁচ দিন আগে ফ্লোরিডার পাম বিচে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
দল ঘোষণার সময় কোচ রবার্তো মার্তিনেস জানান, তাঁর এই স্কোয়াডটি মূলত ২৭ জন খেলোয়াড় এবং প্লাস ওয়ানের সমন্বয়ে গঠিত। এই ‘প্লাস ওয়ান’ হলেন লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড ডিওগো জোতা, যিনি গত বছরের জুলাই মাসে মাত্র ২৮ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
জোতাকে স্মরণ করে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে মার্তিনেস বলেন, ডিওগো আমাদের শক্তি, আমাদের আনন্দ। তাঁকে হারানো আমাদের জন্য এক অবিস্মরণীয় এবং অত্যন্ত কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরদিনই আমরা সবাই মিলে ডিওগোর সেই স্বপ্ন পূরণ এবং জাতীয় দলে তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তার জন্য লড়াই করার পণ নিয়েছিলাম। ডিওগো জোতার চেতনা, শক্তি ও আদর্শই আমাদের দলের সেই প্লাস ওয়ান এবং এটি সব সময় আমাদের সাথে থাকবে।

ঘোষিত স্কোয়াডে চারগোলরক্ষক রাখা নিয়ে মার্তিনেস স্পষ্ট করেন যে, তুরস্কের ক্লাব জেনক্লেরবিরলিগি আনকারার গোলরক্ষক রিকার্দো ভেলহো দলের চতুর্থ কিপার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরবেন। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রধান তিন গোলরক্ষকের কেউ ইনজুরিতে পড়লেই শুধু ভেলহো অফিশিয়াল ২৬ সদস্যের মূল তালিকায় যুক্ত হতে পারবেন। ভেলহো নিজেও দলের ট্রেইনিং কিপার হিসেবে নিজের এই ভূমিকা সম্পর্কে অবগত আছেন।
মাটিয়াস ফার্নান্দেস, রিকার্দো হোর্তা এবং পেদ্রো গনকালভেসের মতো নিয়মিত তারকাদের বাদ দিয়ে পাঁচজন ফুলব্যাক ও চারজন গোলরক্ষক দলে নেওয়া প্রসঙ্গে মার্তিনেস বলেন, বিশ্বকাপের মতো একটি বড় টুর্নামেন্টের জটিলতা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার আবহাওয়া, ভিন্ন টাইম জোন, সব কিছুই আমরা গত মার্চে সামলেছি। তাই আমাদের এমন কিছু পজিশন রয়েছে যেখানে ব্যাকআপ হিসেবে প্রতি পজিশনে দুজনের বেশি খেলোয়াড় রাখা জরুরি ছিল। আর এই কারণেই আমরা পাঁচজন ফুলব্যাক নিয়েছি। তিনি দিওগো দালোত, জোয়াও কানসেলো এবং মাথেউস নুনেসদের বহুমুখী খেলার সামর্থ্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
বর্তমান নেশনস লিগ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল বিশ্বকাপে খেলবে কে-গ্রুপে। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে রোনালদোদের বিশ্বকাপ অভিযান। একই ভেন্যুতে ২৩ জুন তারা মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তানের এবং ২৭ জুন মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। আগামী ৬ জুন ওয়েইরাসে চিলির বিরুদ্ধে এবং ১০ জুন লেইরিয়াতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাও দে ইউরোপ মহাদেশের এই পরাশক্তিরা।

ঘোষিত পর্তুগাল স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: দিওগো কোস্তা (এফসি পোর্তো), জোসে সা (উলভস), রুই সিলভা (স্পোর্টিং সিপি), রিকার্দো ভেলহো (জেনক্লেরবিরলিগি আনকারা, প্রশিক্ষণ গোলরক্ষক)।
ডিফেন্ডার: দিওগো দালোত (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), মাথেউস নুনেস (ম্যানচেস্টার সিটি), নেলসন সেমেদো (ফেনারবাচে), জোয়াও কানসেলো (বার্সেলোনা), নুনো মেন্দেস (পিএসজি), গনসালো ইনাসিও (স্পোর্টিং সিপি), রেনাতো ভেইগা (ভিয়ারিয়াল), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), তোমাস আরাউজো (বেনফিকা)।
মিডফিল্ডার: রুবেন নেভেস (আল হিলাল), সামুয়েল কোস্তা (মায়োর্কা), জোয়াও নেভেস (পিএসজি), ভিতিনহা (পিএসজি), ব্রুনো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), বার্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি)।
ফরোয়ার্ড: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (আল নাসর), জোয়াও ফেলিক্স (আল নাসর), ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও (স্পোর্টিং সিপি), ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও (ইউভেন্টাস), পেদ্রো নেতো (চেলসি), রাফায়েল লেয়াও (এসি মিলান), গনসালো গেদেস (রিয়াল সোসিয়েদাদ), গনসালো রামোস (পিএসজি)।
