তবে এই দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দিকটি ছিল এর প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার স্বয়ং নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড একটি পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেন। রাজার মুখ থেকে নিজের নাম শোনার আগ পর্যন্ত অনেক খেলোয়াড়ই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তারা আসলেই বিশ্বমঞ্চে যাচ্ছেন।
ডিফেন্ডার সন্ড্রে লাঙ্গাস জাতীয় গণমাধ্যম এনআরকে’কে অকপটে বলেন, ভিডিওটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এমনকি এক সেকেন্ডের জন্যও আমি রাজাকেও বিশ্বাস করিনি!
নরওয়ের গোলরক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়াটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ছিল এক চরম বিশৃঙ্খল ও গোলমেলে অধ্যায়। প্রথম পছন্দের অন্যতম দাবিদার এসকে ব্র্যানের ম্যাথিয়াস ডিঙ্গেল্যান্ডের আকস্মিক ইনজুরি এবং গোলরক্ষক নিকিতা হাইকিনের জাতীয়তা পরিবর্তনের আবেদন ফিফা কর্তৃক বাতিল হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন হেড কোচ স্টেল সোলবাকেন। এই ত্রিমুখী সংকটের মাঝেই কপাল খুলে যায় তরুণ টাংভিকের। অভিজ্ঞ ওরিয়ান হাসকজোল্ড নাইল্যান্ড এবং এগিল সেলভিকের সাথে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে তিনি দলে জায়গা করে নেন। পুরো স্কোয়াডে তিনিই একমাত্র আনক্যাপড খেলোয়াড়।
গোলরক্ষক পজিশন নিয়ে তুমুল নাটক হলেও বাকি স্কোয়াডে বড় কোনো চমক রাখেননি কোচ। আর্সেনালের হয়ে সদ্যই প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতা অধিনায়ক মার্টিন ওদেগার্ড মাঝমাঠের হাল ধরবেন, আর আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষের রক্ষণ চূর্ণ করার মূল দায়িত্ব থাকবে ম্যানচেস্টার সিটির গোল মেশিন আর্লিং হালান্দের ওপর।
মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে কোচ দলে টেনেছেন জেনস পেটার হাউগে এবং থেলো আসগার্ডকে। তবে তাদের এই অন্তর্ভুক্তি কপাল পুড়িয়েছে তুলুজের উইঙ্গার অ্যারন ডোনাম এবং ব্র্যানের ফেলিক্স হর্ন মাইরের মতো তারকাদের। বাছাইপর্বে দলের সাথে থেকেও মূল বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার বেদনা নিয়ে তাদের এখন ঘরেই বসে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিফেন্সে ক্রিস্টোফার আঝের, লিও ওস্টিগার্ড এবং তরবিয়র্ন হেগেমের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি ব্যাক-আপ হিসেবে সন্ড্রে লাঙ্গাস ও হেনরিক ফালচেনারকে রেখে রক্ষণভাগ সাজিয়েছেন সোলবাকেন।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নরওয়েকে পড়তে হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতার মুখে। আই-গ্রুপে তাদের সঙ্গী বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স, আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল এবং শক্তিশালী ইরাক। ফুটবল বোদ্ধারা ইতিমধ্যেই এই গ্রুপটিকে টুর্নামেন্টের ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বা মৃত্যুর গ্রুপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ওদেগার্ড-হালান্দদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের নিয়ে গড়া নরওয়ে এই কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে কতদূর যেতে পারে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
নরওয়ের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ওরিয়ান হাসকজোল্ড নাইল্যান্ড (সেভিয়া), এগিল সেলভিক (ওয়াটফোর্ড), স্যান্ডার টাংভিক (হ্যামবার্গার এসভি)।
রক্ষণভাগ: জুলিয়ান রাইয়ারসন (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেন (তরিনো), ডেভিড মোলার ওল্ফ (ভলভারহ্যাম্পটন), ফ্রেডরিক বিয়োরকান (বোডো/গ্লিমট), ক্রিস্টোফার আঝের (ব্রেন্টফোর্ড), তরবিয়র্ন হেগেম (বোলোনিয়া), লিও স্কিরি ওস্টিগার্ড (জেনোয়া), সন্ড্রে লাঙ্গাস (ডার্বি কাউন্টি), হেনরিক ফালচেনার (ভিকিং)।
মধ্যমাঠ: মার্টিন ওদেগার্ড (আর্সেনাল), স্যান্ডার বার্গ (ফুলহ্যাম), ফ্রেডরিক আউরসনেস (বেনফিকা), প্যাট্রিক বার্গ (বোডো/গ্লিমট), ক্রিস্টিয়ান থার্স্টভেড (সাসুওলো), মর্টেন থর্সবি (ক্রেমোনিজ), থেলো আসগার্ড (র্যাঞ্জার্স)।
আক্রমণভাগ: আর্লিং হালান্দ (ম্যানচেস্টার সিটি), আলেকজান্ডার সরলথ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন (ক্রিস্টাল প্যালেস), আন্তোনিও নুসা (আরবি লাইপজিগ), অস্কার বব (ফুলহ্যাম), আন্দ্রেয়াস শজেল্ডারুপ (বেনফিকা), জেনস পেটার হাউগে (বোডো/গ্লিমট)।