চোটের কারণে রোববার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না তাঁর। কিন্তু মাঠের বাইরে থাকলেও, হেক্সা মিশনের ঠিক আগমুহূর্তে পুরো ব্রাজিল দলের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই একজনই- নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন তাদের অফিশিয়াল প্রেস কিটে নেইমারের একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি শুনিয়েছেন তাঁর ফিরে আসার লড়াইয়ের গল্প।
প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে আবারও সেলেসাও স্কোয়াডে ফিরেছেন নেইমার। গত কয়েক বছরে একের পর এক চোটের যে নির্মম মরণকামড় তিনি সহ্য করেছেন, তা মনে করে এই পোস্টার বয় বলেন, এতসব কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর আবেগপ্রবণ না হয়ে থাকাটা সত্যিই কঠিন। এত ঝড়ের পরেও যে আমি আরও একটি বিশ্বকাপে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছি, এটা ভাবতেই অবিশ্বাস্য লাগছে। আমি সেই সব ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের হৃদয় থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যাঁরা আমার কঠিন সময়ে আমার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং আমাকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে চেয়েছেন।
২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ হাঁটুর ইনজুরি, এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন, আর অতি সম্প্রতি পায়ের কাফের পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার চোট, সব মিলিয়ে গত কয়েক মাস নেইমারের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে তীব্র সংশয় ছিল। কিন্তু সব বাধা মারিয়ে তিনি এখন দলের সাথে আমেরিকায়। ভক্তদের উদ্দেশ্যে ড্রেসিংরুমের ঐক্যের বার্তা দিয়ে ‘নাম্বার টেন’ বলেন, এখন আমরা পুরো দল এক সুতোয় গাঁথা। আমাদের সামনে আরও একটি বিশ্বকাপ মিশন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ব্রাজিলের বুকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফিটা ফিরিয়ে আনার জন্য এবার আমরা মাঠে নিজেদের জীবন সঁপে দেব। আমি আজ সত্যিই অনেক আনন্দিত।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসরা যখন মাঠে লড়াই করবেন, ডাগআউটে বসে নেইমারের এই আবেগঘন পুষ্টিই হবে তরুণ সেলেসাওদের মূল জ্বালানি। আগামী সপ্তাহেই দলীয় অনুশীলনে ফিরে হাইতির বিপক্ষে পরের ম্যাচেই বল পায়ে সাম্বা জাদু দেখাতে মরিয়া হয়ে আছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি।