দীর্ঘ ২৪ বছর পর অবশেষে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরছে ইউরেশিয়ান জায়ান্ট তুরস্ক। সবশেষ ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। সেই সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে রোববার সকালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ডি-গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছে ভিনচেঞ্জো মন্তেল্লার শিষ্যরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ওশেনিয়া অঞ্চলের লড়াকু দল অস্ট্রেলিয়া।
উয়েফা প্লে-অফের অগ্নিপরীক্ষা পার হয়ে মূল পর্বে আসা তুর্কিরা এই ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই হট-ফেভারিট। তবে অজিদের ড্রেসিংরুম থেকে যে হুঙ্কার আসছে, তাতে ম্যাচটি যে একপেশে হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

ইউরো ২০২৪ আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল তুরস্ক। তবে সেই আসরে তাদের নান্দনিক ফুটবল বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম আর বিশাল দূরত্বের ভ্রমণ ক্লান্তি নিয়ে কোচ মন্তেল্লা বলেন, অস্ট্রেলিয়া ভিন্ন ঘরানার এবং দারুণ গুণসম্পন্ন একটি দল। তবে আমাদের নিজেদের খেলাটাই খেলতে হবে। বিশ্বকাপ সবার জন্যই কঠিন। দীর্ঘ ভ্রমণ এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, সব কিছুর সাথে যে দল দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামলে অজুহাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এখানে নিজের সেরাটাই উজার করে দিতে হয়।

অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপে ডেনমার্ক ও তিউনিসিয়াকে হারিয়ে শেষ যোলতে উঠে চমক দেখায় অস্ট্রেলিয়া। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের সাথে একই গ্রুপে থাকায় এবং দলটিকে অনেকেই দুর্বল ভাবায় কিছুটা চটেছেন অজি ফুটবলাররা। বিশেষ করে ফেইনুর্ডের ২১ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি জর্ডান বস, যিনি রক্ষণ, মাঝমাঠ কিংবা উইঙ্গার, সব পজিশনেই খেলতে পারেন, তাকে ভাবা হচ্ছে এই বিশ্বকাপের উদীয়মান তারকা।
আমেরিকান মিডিয়ার সমালোচনা ও কটাক্ষ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জর্ডান বস ইএসপিএন’কে বলেন, আমাদের হারানো খুবই কঠিন। আমরা প্রায় প্রতিটি টুর্নামেন্টেই ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে যাই এবং মানুষকে ভুল প্রমাণ করতে আমাদের দারুণ লাগে। আমাদের হয়তো ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের তারকা খেলোয়াড় নেই, কিন্তু দল হিসেবে আমরা একতাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আমাদের নিয়ে যা তা বলছে, আমি তা দেখেছি এবং এটা আমার ভেতরের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমরা মাঠে নেমে শুধু জয় নিয়েই ফিরতে চাই।

অজিদের নতুন কোচ টনি পপোভিক ২০২৭ এশিয়ান কাপ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করে এই তরুণ ও অনূর্ধ্ব-২৫ খেলোয়াড়ে ঠাসা দলটির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে কোনো ইনজুরির সমস্যা নেই, তারা পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামছে। তবে তুরস্ক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হলো জুভেন্টাসের তরুণ তারকা কেনান ইলদিজের কাফ ইনজুরি, যার কারণে আগামীকাল তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক ইতিহাসে এর আগে কখনোই মুখোমুখি হয়নি অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। তবে ২০০৪ সালে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি, যার দুটিতেই জিতেছিল তুরস্ক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্পেনের কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে টানা ৮ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে মন্তেল্লার দল; যার শেষ ৪ ম্যাচের ৩টিতেই তারা কোনো গোল হজম করেনি।

অন্যদিকে ২০২৬ সালে খেলা ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে গোল করার ক্ষেত্রে অজিদের কিছুটা খরা রয়েছে; শেষ ৮ ম্যাচের ৭টিতেই তারা একটির বেশি গোল করতে পারেনি, শুধু ব্যতিক্রম কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়। তবে আরেকটি স্বস্তির খবর হলো, ২০২৪ সালে সেপ্টেম্বরে বাহরাইনের কাছে ১-০ গোলে হারার পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারেনি সকারুজরা।
তুরস্কের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আরদা গুলের ও চালহানোগলুর আক্রমণ বনাম অস্ট্রেলিয়ার ইস্পাতকঠিন রক্ষণ, সব মিলিয়ে ভ্যাঙ্কুভারে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ১০টায় শুরু হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশ: রায়ান; ইতালিয়ানো, চিরকাতি, সুটার, হেরিংটন, বস; মেটকাফ, আরভিন, ও'নিল, লেকি; তুরে।
তুরস্কের সম্ভাব্য একাদশ: চাকির; চেলিক, দেমিরাল, বার্দাকচি, এলমালি; চালহানোগলু, ইয়ুকসেক; গুলের, কোকচু, ইয়িলমাজ; গুল।
