মঙ্গলবারের মেগা সেমিফাইনালে ডালাসের মাঠে যখন স্পেন ও ফ্রান্স একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন ফরাসি শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম কোনো ফুটবলার নন, বরং স্পেনের ড্রেসিংরুমে বসে থাকা এক জাদুকরি মাস্টারমাইন্ড- লুইস দে লা ফুয়েন্তে!
বিশ্ব ফুটবলে সাফল্যকে যিনি এক প্রকার ডালভাত বানিয়ে ফেলেছেন, সেই স্প্যানিশ কোচের অধীনে লা রোহারা এখন উড়ছে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের যুব দল থেকে শুরু করে আজ সিনিয়র দল, কোচিং ক্যারিয়ারে দে লা ফুয়েন্তে যে আসরেই হাত দিয়েছেন, সেখান থেকেই অন্তত সেমির টিকিট কেটেছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও সেই ধারা বজায় রেখে স্পেনকে বিশ্বের শীর্ষ চারে তুলে এনেছেন এই রণকৌশলী।
২০২২ সালের শেষে স্পেনের সিনিয়র দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দে লা ফুয়েন্তের একমাত্র ফাইনাল হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছিল ২০২৫ উয়েফা নেশনস লীগে, যেখানে পর্তুগালের কাছে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে পেনাল্টি শুটআউটে কপাল পুড়েছিল স্পেনের।
সেই একটিমাত্র ধাক্কা বাদ দিলে লা রোহাদের রেকর্ড বুক অবিশ্বাস্য। ২০২৩ সালের জুন থেকে অফিশিয়াল ম্যাচে ৩০টি জয় ও ৭টি ড্র নিয়ে অপরাজিত রয়েছে স্পেন; এই সময়ে প্রতিপক্ষের জালে তারা বল জড়িয়েছে ৯৬ বার, আর নিজেদের জালে গোল খেয়েছে মাত্র ২৬টি!
এই মহাজাগতিক অপরাজিত যাত্রার মাধ্যমে দে লা ফুয়েন্তে ইতালির রবার্তো মানচিনির গড়া অফিশিয়াল রেকর্ডকেও ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন এবং আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা শক্তিশালী দল হিসেবে স্পেনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অবশ্য এই সাফল্যের বীজ তিনি অনেক আগেই বুনেছিলেন, সিনিয়র দলের আগে স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২১ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানোর পাশাপাশি টোকিও অলিম্পিকে স্প্যানিশদের রূপা এনে দিয়েছিলেন এই স্পেশালিস্ট।
মঙ্গলবারের ড্যালাস থ্রিলারে দে লা ফুয়েন্তের সামনে এবার চেনা প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। এর আগে ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনাল এবং ২০২৫-এর নেশনস লীগে এই ফ্রান্সকেই লাথি মেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছিল স্প্যানিশরা। এবারও লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, রদ্রি, দানি ওলমো, মিকেল মেরিনো এবং উনাই সিমোনের মতো একঝাঁক নবাবদের নিয়ে ইতিহাস গড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত স্পেন।
ডালাসের মাটিতে ফরাসিদের বধ করতে পারলেই বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করবে লা রোহা। একই সাথে ফুটবল বিশ্ব আরও একবার দেখবে সেই কোচের জাদু, যিনি সেমিফাইনাল খেলাটাকে কোনো বড় অর্জন নয়, বরং নিজের দলের জন্য স্রেফ একটি মামুলি প্রত্যাশায় পরিণত করেছেন!