মঙ্গলবার ড্যালাসের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে যখন ফ্রান্স আর স্পেন একে অপরের রক্ত চুষতে নামবে, তখন মাঠের ভেতরের লড়াইকে ছাপিয়ে শুরু হয়ে গেছে তুমুল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ! স্পেনের ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল সংবাদমাধ্যমে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফরাসি শিবিরে খামোখাই উস্কানি দিয়ে বসেছেন। ইয়ামাল জানিয়েছেন, যদি এই ম্যাচে কাউকে ভয় পেতে হয়, তবে সেটা ফ্রান্সকে। কারণ শেষ দুটি দেখায় স্পেনই ফরাসিদের লাথি মেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছিল!
ইয়ামালের এই অহংকারী ও তড়বড়ে হুঙ্কারে যখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়, ঠিক তখনই লিভারপুলের ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে এক ঠান্ডা ও কড়া জবাবে স্প্যানিশ তরুণের অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন।

ডালাসের মেগা ম্যাচের আগে কোনাটে কোনো রকম সস্তা বিতর্কে না জড়িয়ে অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু ধারালো ভাষায় প্রতিপক্ষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মুখের কথার চেয়ে মাঠের ফুটবলই আসল কথা বলবে। ইয়ামালের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনাতে বলেন, কে কী বলল, তা শোনার সময় আমাদের নেই। প্রতিটি খেলোয়াড়েরই নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার আছে। তবে মনে রাখতে হবে, সামনে বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং এই মুহূর্তে ফোকাস হারানো এক চরম বোকামি।
লিভারপুলের এই সেন্টার-ব্যাক মনে করিয়ে দেন যে, দিদিয়ের দেশমের দলের এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো কঠোর শৃঙ্খলা, দলীয় সংহতি এবং মাটিতে পা রেখে চলা। তাই সেমির মতো বড় মঞ্চে এই মানসিকতা ধরে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এসে ফ্রান্সের গেমপ্ল্যান কি শুধু এই স্প্যানিশ পোস্টার বয়কে থামানো? কোনাতে এই ধারণাকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন দলে শুধু একজন ইয়ামাল নেই, বরং পুরো স্কোয়াডেই বিশ্বমানের তারকারা রয়েছেন। কোনাতের দাবি, শুধু বার্সেলোনার ওই তরুণকে নিয়ে পড়ে থাকলে, তা হবে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভুল।
স্পেনের সামগ্রিক শক্তির প্রশংসা করলেও কোনাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফরাসি প্রাচীর কোনো একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ভয় পেয়ে নিজেদের রণকৌশল বদলাবে না। মঙ্গলবার ডালাসের গালিচায় ইয়ামালের অহংকারী মুখের চড় ফরাসি ডিফেন্স কীভাবে ফিরিয়ে দেয় এবং কার হুঙ্কার শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠার আনন্দে রূপ নেয়, তা দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন নখ কামড়ানো অপেক্ষায়!
