নীল জার্সি পরেই ইংল্যান্ড বধে নামছে আর্জেন্টিনা

বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে যখন বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মেগা সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের ভেতরের ফুটবল যুদ্ধকে ছাপিয়ে লাইমলাইটে চলে এসেছে জার্সির রঙের এক চরম নাটকীয় মনস্তাত্ত্বিক চাল!

মহারণের আগে জানা গেছে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বুধবার ঐতিহ্যবাহী আকাশী-নীল জার্সি তুলে রেখে মাঠে নামবে তাদের ‘নেভি ব্লু’ বা গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে কিট পরে। অন্যদিকে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড বরাবরের মতোই থাকছে তাদের ধবধবে সাদা হোম জার্সিতে। চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির দল এই গাঢ় নীল রঙের জার্সি মাত্র একবারই পরেছিল, গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী জার্সি বদলের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমগুলো কিন্তু অন্য গন্ধ পাচ্ছে! তাদের দাবি, এর পেছনে জড়িয়ে আছে চরম এক কুসংস্কার এবং ইংলিশদের মনে পুরনো ক্ষতের কাঁপন ধরিয়ে দেয়ার নিখুঁত লাতিন চাল।

ফুটবল ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার যতসব আইকনিক ও ঐতিহাসিক জয়, তার সব কটিই এসেছে এই গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে!

১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনালের কথা কারোরই ভোলার কথা নয়, যেখানে এই নেভি ব্লু জার্সি পরেই ইংল্যান্ডের বুক চিরে ডিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন সেই বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা একক গোলটি, যার ওপর ভর করে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচেও এই গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরেই টাইব্রেকারে থ্রি-লায়ন্সদের লাথি মেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

তবে এই জার্সি জুজুর উল্টো পিঠও দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। ২০০২ সালের জাপান বিশ্বকাপে যখন জার্সি অদলবদল হয়েছিল, অর্থাৎ আর্জেন্টিনা পরেছিল তাদের চিরাচরিত আকাশী-নীল আর ইংল্যান্ড নেমেছিল লাল জার্সি পরে, সেদিন কিন্তু মাইকেল ওয়েনের দল আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল।

ফিফা সাধারণত দুই দলকেই তাদের প্রথম পছন্দের হোম জার্সি পরে খেলার অনুমতি দিতে চায়। তবে দুই দলের জার্সিতে রঙের মিল বা বৈসাদৃশ্যের অভাব থাকলে ফিফা হস্তক্ষেপ করে। বিশেষ করে গ্যালারিতে বা টিভির সামনে বসে থাকা বর্ণান্ধ সমর্থকদের সুবিধার্থে একটি দলকে গাঢ় রঙের এবং অন্য দলকে হালকা রঙের জার্সি পরার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুই দলই অতিরিক্ত সময়ের হাড়হিম করা নাটক পার করে শেষ চারে উঠেছে। শনিবার জুড বেলিংহ্যামের ডাবল ধামাকায় ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে বিদায় করেছে, আর রবিবার ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে পিষে দিয়েছে আর্জেন্টিনা।

আটলান্টার উত্তপ্ত গালিচায় বুধবার ম্যারাডোনার সেই ‘অভিশপ্ত’ নেভি ব্লু জার্সির ভূত হ্যারি কেনদের আবার গ্রাস করবে, নাকি ধবধবে সাদা জার্সিতে ব্রিটিশরা লাতিন সাম্বার দর্প চূর্ণ করে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালের টিকিট কাটবে, তা দেখার জন্য উত্তেজনায় কাঁপছে পুরো ফুটবল দুনিয়া!

তথ্যসূত্র: বিবিসি