বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যে দলের হাতেই উঠুক না কেন, তারা শুধু ফুটবলের ইতিহাসেই অমরত্ব পাবে না, একদম টাকার পাহাড়ে ভেসে যাবে! এবারের বিশ্বকাপে ফিফা তাদের আর্থিক পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে রেকর্ড ১.২৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রাইজমানি। এর মধ্যে প্রায় ৯৩৮ মিলিয়ন ডলার দেয়া হচ্ছে পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের (৬৩০ মিলিয়ন ডলার) চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
সহজ কথায়, টুর্নামেন্টে যে দল যত দূর এগোবে, তাদের পকেট তত বেশি গরম হবে। এবারের চ্যাম্পিয়ন সে আর্জেন্টিনা বা স্পেন, যারাই হোক না কেন, তারা ঘরে তুলবে পাক্কা ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর রানার্স-আপ দল সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে পাবে ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তবে খালি হাতে কেউ ফিরছে না! বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্য ন্যূনতম ১২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্ক নিশ্চিত করা আছে। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার হলো কেবল যোগ্যতা অর্জনের (কোয়ালিফিকেশন) পুরস্কার এবং বাকি ২.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে ভ্রমণ, হোটেল ও লজিস্টিকস খরচের প্রস্তুতি ভাতা হিসেবে।
দলগুলোর মাঠের পারফরম্যান্স যেমনই হোক না কেন, এই টাকা তারা নিশ্চিতভাবেই পাবে; আর ভালো খেললে এর সাথে যুক্ত হবে বাড়তি পারফরম্যান্স প্রাইজমানি। যেমন, অস্ট্রেলিয়া দল নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ড (রাউন্ড অব ৩২) থেকে বিদায় নিয়ে ২২তম স্থান পেলেও, এই ন্যূনতম ভাতার বাইরে অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পকেটে পুরেছে।
শুধু দেশগুলোই নয়, ক্লাবগুলোর জন্যও টাকার বস্তা খুলেছে ফিফা। যে ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়রা এই বিশ্বকাপে খেলছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে ফিফা আলাদাভাবে ৫০৮ মিলিয়ন ডলারের ‘ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। গত ২০০২ সালের পর থেকে এই প্রাইজমানির পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
অনেকে ভাবতেই পারেন, এত টাকা ফিফা পাচ্ছে কোত্থেকে? আসলে ফিফার জন্য টাকার কোনো অভাব নেই। রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের এই চার বছরের চক্রে ফিফার আয় ১৫.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের এই বাণিজ্যিক সফলতার কারণে গত এপ্রিলেই ফিফা তাদের আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ আরও ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বেশ গর্ব করেই বলেছিলেন, ফিফা বর্তমানে ইতিহাসে তার সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে, যা আমাদের সদস্য দেশগুলোকে নজিরবিহীনভাবে সাহায্য করতে সক্ষম করছে। এটি ফিফার সম্পদ আবার ফুটবলেই ফিরিয়ে দেওয়ার অন্যতম সেরা উদাহরণ।
অবশ্য এই বিশাল অঙ্কের টাকা কিন্তু সরাসরি খেলোয়াড়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায় না। ফিফা এই অর্থ প্রদান করে প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে। এরপর সেই ফেডারেশন ঠিক করে খেলোয়াড়, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফরা কত টাকা পাবেন।
সাধারণত মোট অর্থের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ খেলোয়াড়দের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বাকি টাকা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো কীভাবে খরচ করবে তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও, নিয়ম অনুযায়ী এই বিপুল অর্থ তৃণমূলের ফুটবল উন্নয়ন, নতুন স্টেডিয়াম ও সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং ভবিষ্যৎ ফুটবলার গড়ে তোলার পেছনে বিনিয়োগ করার কথা। সংক্ষেপে, বিশ্বকাপ মানে এখন কেবলই ট্রফির লড়াই নয়, মাঠের ভেতরে ও বাইরে এক পিজা-সাইজ ডলারের ভাগাভাগি!