সারাদেশের খোলা বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। একই সঙ্গে চাল এবং পেঁয়াজসহ দাম বাড়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে ডাল, চিনি ও আটা।
বিভিন্ন জেলার বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে কিছু এলাকায় বেশি দামে ভোজ্যতেল পাওয়া গেলেও অনেক এলাকায় দোকানে ভোজ্যতেল নেই।
ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারির কারণে পণ্যের সরবরাহ কমছে। তাই প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় বোধ করছে ক্রেতারা।
তাদের ধারনা, বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। প্রতিটি পণ্যের মূল্য হু হু করে বাড়ছে। সরকারের তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো কিছুতেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
ক্রেতাদের আরো অভিযোগ, মাঝে-মধ্যে কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দেখে দেখে দু’চারজনের জরিমানা করে ফলাও করে প্রচার করা হয়। বাস্তবে কোথাও তদারকি নেই।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ৮৫ টাকার রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। ৭২ টাকা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকায়।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পণ্য সংকটের কথা বলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে কোম্পানিগুলো। যদিও বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দামামা এবং আসন্ন রমজান ঘিরে অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করছে।
রাজশাহীতে তেলের কৃত্রিম সংকট কমাতে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কর্মকর্তারা মুদি দোকানিদের নির্দেশ দিয়েছেন, জন প্রতি এক লিটার করে সয়াবিন তেল বিক্রি করতে।
এদিকে পেঁয়াজের ভাণ্ডার পাবনায় পেঁয়াজের দাম কম হলেও, সারাদেশে মতো বেড়েছে সব ধরনের পণ্যের দাম। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
আরও পড়ুন: প্রায় পাঁচ লাখে বিক্রি হলো বঙ্গোপসাগরের ভোল মাছ
ফরিদপুরে ৪০ টাকার পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এছাড়া বেড়েছে সব ধরণের সবজির দাম।
রংপুরে সরবরাহ বন্ধের অজুহাতে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে বেশিরভাগ দোকানদার। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও গরুর মাংসের দাম।
নেত্রকোনার মত ছোট শহরে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়।
একাত্তর/আরএ
