দেশে পশুর ছোট খামার বন্ধ হয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক খামার গড়ে উঠছে। বড় পুঁজির সাথে পাল্লা দিতে না পেরে বন্ধ হচ্ছে ছোট খামারগুলো। এভাবে চলতে থাকলে পোলট্রিখাতের মতো পশুর খামারের ব্যবসাও গুটিকয়েক সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাবে বলে আশঙ্কা ছোট খামারিদের।
মিনি খামার ক্যাটাগরিতে দুইবারের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মানিকগঞ্জের খামারি কাজী মোর্শেদ মিয়া। গেল বছরও ৪০টি গরু ছিল তার গৃহস্থালি খামারে। এবার সংখ্যাটা মাত্র ৪টি। তার মধ্যে একটি কোরবানি উপযুক্ত। সেটিরও ভরণ পোষণ করে পুষিয়ে উঠতে পারছেন না। তার মতে বড় খামারিরা অহেতুক বেশি দামে গোখাদ্য কিনে বাজার নষ্ট করছে।
তিনি বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের সাথে আমরা পারিনা। দিনকে দিন সবকিছুর দাম বাড়ছেই।
শুধু তাই নয় খামারিদের অভিযোগ বাজারে গমের মূল্য ৬০ টাকা হলেও গমের ভুষির দাম ৬৫ টাকা। আমদানি করা অন্যান্য দানাদার খাবারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে বেড়েছে তার থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে দেশের বাজারে। ফলে দৈনন্দিন খরচ কুলিয়ে উঠতে পেরে খামার বন্ধ করছেন তারা।
ক্ষুদ্র খামারিরা বলছেন, তারা যেসব জায়গা থেকে দানাদার খাবার কিনতেন- এরইমধ্যে সেসব ব্যবসায়ীরা কয়েক দফায় দাম বাড়িয়েছেন। ফলে অতিরিক্ত পয়সা খরচ করেই তাদের টিকে থাকতে হচ্ছে।
তবে বড় খামারিরা বলছেন যুগে যুগে ব্যবসার ধরন পাল্টেছে। বাণিজ্যিক খামারের যুগে টিকে থাকতে না পেরে হারিয়ে যাবে প্রান্তিক খামারিরা।
তরুণ উদ্যোক্তাদের মতে, প্রান্তিক খামারি না থাকলে একচেটিয়া বাজার দখল করবে বড় খামারিরা। এতে গরুর মাংসের দাম ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।
আরও পড়ুন: ছাই থেকে স্বর্ণ বিক্রি করে স্বাবলম্বী মানিকগঞ্জের কারিগররা
সরকারি হিসাবে খামার ব্যবসায় প্রতি বছর বিনিয়োগ বাড়ছে, বাড়ছে গরু ছাগলের সংখ্যাও তবে বিপরীতে প্রান্তিক পর্যায় খামার ব্যবসা কমছে সেই সমীক্ষা রাখছেনা কেউ মত সংশ্লিষ্টদের।
একাত্তর/আরএ
