মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক ডিজি ওয়াহিদুল হককে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
জামিনের শর্তে রয়েছে, সাক্ষীদের সঙ্গে দেখা করা এবং হুমকি দিতে পারবেন না, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না, যেখানে থাকবেন সেখান থেকে বের হওয়া যাবে না, বিদেশে যেতে পারবেন না, জামিনে পাসপোর্ট জমা থাকবে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
২০১৬ সালের পাঁচ ডিসেম্বর ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তালিকাভুক্ত করা হয়।
২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই রাজধানীর বারিধারার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।
২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সেদিন মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৭১ সলের ২৮ মার্চ বিকেল চারটার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী হাজার হাজার বেসামরিক জনগণ রংপুর সেনানিবাসের দক্ষিণে কতোয়ালী থানা এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তারা ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সশস্ত্র সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের প্রতিশ্রুতি জানান দিচ্ছিলো।
সেদিন অভিযুক্ত মেজর আসামি মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের নেতৃত্বে সশস্ত্র সেনাবাহিনী (তখন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রংপুর ক্যান্টনমেন্টের ২৯ ক্যাভালরি (অশ্বারোহী) রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন সজ্জিত মেশিনগান দিয়ে জড়ো হওয়া মুক্তিকামী জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বেসামরিক লোককে হত্যা করেন।
যাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। শুধু তাই না, পাকিস্তানি স্বশস্ত্র বাহিনীর হামলায় সেদিন যারা আহত হয়েছিলেন লে. কর্নেল শাগের সেসব আহতদের ফাঁসিও দিয়েছিল। ফলে অভিযুক্ত মেজর মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হক সক্রিয়ভাবে এ ‘গণহত্যায়’ অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও ‘অন্যান্য অমানবিক আচরণ’, ‘নির্যাতন’, ‘হত্যা’র মাধ্যমে ১৯৪৩ সালের জেনেভা কনভেনশনের ৩(২) (কে) (ই) (জি) (জ) ধারা লঙ্ঘন করে অন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ১৯৭৩ ২০(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
১৯৬৬ সালের ১৬ অক্টোবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া ওয়াহিদুল হক ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে ২৯ ক্যাভালরি রেজিমেন্ট রংপুর সেনানিবাসে স্থানান্তরিত হন। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রেজিমেন্টের অ্যাডজুটান্ট হিসেবে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে বদলি হয়ে আবার তিনি পাকিস্তান (পশ্চিম পাকিস্তান) চলে যান। সেখানে তিনি ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করেন। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। সেসময় তাকে সেনাবাহিনী থেকে অবসর দেওয়া হয়।
এরপর ১৯৭৬ সালের এক অক্টোবর ওয়াহিদুল হক বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে কুমিল্লার এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১৯৮২ সালে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটনে অতিরিক্ত কমিশনার, ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, পরে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হিসেবে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এনএসআই এর পরিচালক ছিলেন। পরে একই সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পাসপোর্ট অফিসের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০২ সালে তিনি পুনঃনিয়োগ পান। পরে ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন কমিশনের সার্চ কমিটি গঠন হয়ে গেছে: আসিফ নজরুল
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ