কথায় আছে কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেকেই অনেক কিছু করেন। ঠিক তেমনি অল্প বয়স থেকেই হিন্দি সিনেমায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছেন বলিপাড়ার একাধিক তারকা। অনেকের ক্ষেত্রেই তাদের পরিবারের মত ছিলো না অভিনয়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসা অভিনয় শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন কার্তিক আরিয়ান থেকে কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকার নাম।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন-
নাসিরুদ্দিন শাহ: সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করলেও আশির দশকে বলিপাড়ায় জনপ্রিয় হতে শুরু করেন নাসিরুদ্দিন। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, মালয়ালম, উর্দু এবং ইংরেজি ভাষার ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে।
শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিলো নাসিরুদ্দিনের। কিন্তু বাড়ির ছেলে অভিনয়ে নামবেন তা চাইতো না নাসিরুদ্দিনের পরিবার। তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে মুম্বাই চলে যান তিনি। ২০১৪ সালে প্রকাশ পায় নাসিরুদ্দিনের আত্মজীবনী ‘অ্যান্ড দেন ওয়ান ডে’। ওই বইয়ে নাসিরুদ্দিন জানান, স্বপ্ন পূরণ করতে ছোটবেলায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ঘর ছাড়া হন।
সোনু সুদ: অভিনেতার পাশাপাশি সমাজসেবী হিসেবেও পরিচিতি গড়ে তুলেছেন সোনু সুদ। তামিল ও তেলুগু ভাষার ছবির মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সোনু। ২০০২ সালে হিন্দি ছবিতে অভিনয় শুরু করেন তিনি। অভিনয় নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান বলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান সোনু। কানাঘুষো শোনা যায়, লুধিয়ানা থেকে টিকিট না কেটেই মুম্বাইগামী ট্রেনে চেপে বসেন তিনি।
কঙ্গনা রানাউত: ২০০৬ সালে অনুরাগ বসুর পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘গ্যাংস্টার’ ছবিটি। এই ছবির মাধ্যমে বলিপাড়ায় আত্মপ্রকাশ বলি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের। ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের শখ ছিলো কঙ্গনার। কিন্তু বাড়ির সকলে চাইতেন ডাক্তারি পড়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক কঙ্গনা। বাড়িতে জোর করায় মেডিকেল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন তিনি। প্রস্তুতি নিলেও সে পরীক্ষা দিতে যাননি কঙ্গনা।
কঙ্গনা তার পরিবারের কাছে নিজের ইচ্ছার কথা জানালে দু’পক্ষের মতের অমিল দেখা দেয়। তাই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে দিল্লি চলে যান তিনি। দিল্লি যাওয়ার পর মডেলিংয়ে নামেন কঙ্গনা। ১৬ বছর বয়স থেকে মডেলিংয়ের পাশাপাশি থিয়েটারের খ্যাতনামা পরিচালক অরবিন্দ গৌরের কাছে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
কার্তিক আরিয়ান: সাম্প্রতিক সময়ে উপার্জনের নিরিখে বলি অভিনেতাদের তালিকায় প্রথম সারিতে নাম রয়েছে কার্তিক আরিয়ানের। কলেজে পড়ার সময় অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু সে কথা বাড়িতে জানাতে পারেননি অভিনেতা। নিজের স্বপ্নের কথা বাড়ির কাছে গোপন রেখেছিলেন তিনি।
মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন কার্তিক। বাড়ির সকলের ইচ্ছা ছিলো যে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করুক কার্তিক। কিন্তু কার্তিকের চোখে তখন স্বপ্ন বড় পর্দার অভিনেতা হওয়ার। কলেজের ক্লাসে ফাঁকি দিয়ে অডিশন দিতে যেতেন কার্তিক। বাড়িতে না জানিয়ে কলেজ থেকে দু’ঘণ্টা যাতায়াত করে নিয়মিত অডিশন দিতে যেতেন তিনি। এমনকি মডেলিং করাও শুরু করেন তিনি।
কলেজে পড়াকালীন টানা তিন বছর বাড়িতে না জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অডিশন দিয়ে বেড়িয়েছেন কার্তিক। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। কানাঘুষো শোনা যায়, মুম্বাইয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ১২ জনের সঙ্গে থাকতেন কার্তিক।
অডিশন থেকে বার বার ব্যর্থ হয়ে বেরোনোর পর মুম্বাইয়ে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন কার্তিক। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্যার কা পঞ্চনামা’ ছবিতে অভিনয়ের প্রথম সুযোগ পান তিনি। প্রথম ছবির প্রস্তাব পাওয়ার পর কার্তিক তার বাড়িতে জানান যে, তিনি অভিনয় নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান।
যশ: বলি তারকাদের পাশাপাশি এই তালিকায় নাম রয়েছে দক্ষিণী ফিল্ম জগতের অভিনেতা যশের। দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে জানান, অভিনয় নিয়ে যশ ক্যারিয়ার তৈরি করুক তা চাইতেন না যশের বাবা। যশের বাবা চাইতেন যে তার ছেলে সরকারি চাকরি করুক। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান যশ। পকেটে মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি।