ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং দুই মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হুতিদের হামলা

লোহিত সাগরে দখলদার ইসরাইল সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজ এবং দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে (ডেস্ট্রয়ারে) হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেল আবিব। 

ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি স্থানীয় সময় বুধবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর  সিআরআই ও ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের। 

এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে সারি বলেন, হুতিরা এডেন উপসাগরে মার্কিন ‘কোল’ নামের জাহাজে আক্রমণ করতে একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে এবং হামলা ‘সফল’ হয়েছে। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে মার্কিন ল্যাবুন জাহাজেও আক্রমণ করা হয়েছে। দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এডেন উপসাগর দিয়ে উত্তর লোহিত সাগরে যাচ্ছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ইসরাইলকে সুরক্ষা দেয়া।       

এছাড়া লোহিত সাগরে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালিয়েছে হুতিরা। 

ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট, ড্রোন ইউনিট এবং নেভাল ফোর্স সম্মিলিতভাবে এসব হামলায় অংশ নেয় বলে জানান তিনি।  

এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে। 

এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরাইলের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করলে হুতি সমর্থিত সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের জাহাজকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গেলো দশ মাসে ইসরাইল ও তার মিত্রদেশগুলোর শতাধিক জাহাজ ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। পাশাপাশি ইসরাইলের একটি সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।