রেকর্ড ৩৬তম দিনে পা রাখলো যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের অচলাবস্থা আবারও রেকর্ডসংখ্যক দিন অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউনের ৩৫ দিন শেষে ৩৬তম দিনে প্রবেশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ঠিক ৩৫ দিন পর্যন্ত অচল ছিল সরকার। প্রতিদিনই বাড়ছে শাটডাউনের প্রভাব।

বন্ধ হয়ে গেছে খাদ্য সহায়তা। বিমানবন্দর থেকে সামরিক বাহিনী পর্যন্ত, ফেডারেল কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও খারাপ হচ্ছে। সরকারি অফিসগুলোতে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক অনেক কর্মী বেতন না পেয়ে ইতোমধ্যে বিকল্প কাজে সন্ধানে নেমেছেন।

অর্থের অভাবে কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনেটের কয়েকজন জানিয়েছেন, দুই দলের মধ্যে গোপন আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি হতে পারে।

এই অচলাবস্থা ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। কারণ হলো কংগ্রেস নতুন তহবিল চুক্তিতে একমত হতে পারেনি। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে ফেডারেল কর্মীদের বেতন বন্ধ এবং সরকারি পরিষেবা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

সিনেটের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা জন থুন আশার আভাস দিয়েছেন যে সম্ভবত কিছু অগ্রগতি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেছেন, এই বিষয়গুলো কীভাবে পরিচালিত হয় তা দেখেই মনে হচ্ছে, আমরা একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কাছাকাছি চলে এসেছি।

এবারের শাটডাউন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়ের শাটডাউনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়েছে। ২০১৯ সালে শাটডাউন প্রায় ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এবার প্রায় ৩৬ দিন ধরে সরকারি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এর ফলে বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক, বিমানবন্দর কর্মী এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবায় নিয়োজিত মানুষ বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেছেন, যদি এই শাটডাউন চলতে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমার কিছু অংশও বন্ধ করতে হতে পারে।

সরকারি তহবিলে নির্ভরশীল নিম্ন আয়ের মানুষও সমস্যায় পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তবে তহবিল বন্ধ থাকায় চলতি মাসে তারা শুধুমাত্র আংশিক সহায়তা পাচ্ছেন।