মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ইরানে হামলার পথ বেছে নেন, তবে তেহরান এবার ‘ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী’ জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গত বছরের জুনে কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে করা হামলার মতো এবার কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়া হবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন হামলা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেবে। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তো এমনটাই বলবেন। বর্তমানে আমাদের শক্তিশালী জাহাজগুলো তাদের খুব কাছেই অবস্থান করছে। আমি আশা করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আর যদি তা না হয়, তবে সময়ই বলে দেবে কে সঠিক।
ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ এবং মার্কিন হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ক্ষতি হলেও ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানের সক্ষমতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখনও অক্ষত রয়েছে। সাবেক ইরানি কূটনীতিক আমির মুসাভি দাবি করেছেন, গত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে এবং পার্বত্য অঞ্চলে নতুন লঞ্চিং সিস্টেম মোতায়েন করেছে, যা লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত কঠিন।
ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি এক কঠোর বার্তায় বলেছেন, শত্রুর যে কোনো ভুলের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়া হবে। আমাদের প্রতিশোধ হবে সীমাহীন। ইরানে হামলা হলে কোনো মার্কিনী নিরাপদ থাকবে না। অঞ্চলের সেই আগুন আমেরিকা ও তার মিত্রদের পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করে এখন ‘আক্রমণাত্মক’ নীতি গ্রহণ করেছে। নৌ-অবরোধের হুমকিকে উপহাস করে তিনি বলেন, ইরানকে অবরুদ্ধ করা সম্ভব নয়। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আমেরিকার হিসাব-নিকাশের বাইরে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় উত্তেজনা বেড়েছে। তেহরান একে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পর ইইউ’র এই সিদ্ধান্ত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও চাপে ফেলেছে।
ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ বেনি সাবতি এই পরিস্থিতিকে ‘গেম অফ চিকেন’ বা খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, দুই পক্ষের কেউই পিছু হটতে চাইছে না। যদিও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে, তবে ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ পর্যালোচনা করছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মিশর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে তেহরান।
সূত্র: ওয়াইনেট গ্লোবাল