টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন আর শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি পরিণত হয়েছে আইসিসি-পিসিবির মধ্যকার এক স্নায়ুযুদ্ধে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। আর এই জেদি সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাবে আইসিসি এখন এমন এক কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, জয় শাহ্র নেতৃত্বাধীন আইসিসি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে পিসিবির ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে।
মূলত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানের এই ‘সিলেক্টিভ পার্টিসিপেশন’ বা বেছে বেছে খেলার সিদ্ধান্তকে আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও খেলাধুলার সংহতির ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখছে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার দাবি আইসিসি প্রত্যাখ্যান করার পর বাংলাদেশকে আসর থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেয়া। এর প্রতিবাদে গত রোববার পাকিস্তান সরকার এক অভূতপূর্ব ঘোষণা দেয়- দল শ্রীলঙ্কা সফরে গেলেও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি একে ‘নীতির লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করলেও আইসিসি একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে।
যদি পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে আইসিসি নিচের ব্যবস্থাগুলো নিতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা: ১৯৭০-এর দশকে বর্ণবৈষম্যের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, পাকিস্তানকে সেভাবে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করা।
পিএসএলে ধস: বিদেশি খেলোয়াড়দের পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র প্রদান বন্ধ করে দেয়া, যা দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।
আর্থিক অনুদান স্থগিত: আইসিসি থেকে পাকিস্তানের পাওনা বার্ষিক প্রায় ৩৪.৫ মিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিলটি ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেয়া। এই অর্থই পিসিবির অন্যতম আর্থিক ভিত্তি।
ঐতিহাসিকভাবে ভারতের ওপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের চাপ থাকলেও, গত বছর বিসিসিআই বৈশ্বিক ক্রিকেটের স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানে এশিয়া কাপ খেলতে গিয়েছিল।
কিন্তু পাকিস্তানের বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই স্পোর্টিং স্পিরিটকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পর্দার আড়ালে এখনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। আসর শুরু হতে এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় একটি সম্মানজনক সমঝোতার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশকেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় স্কটল্যান্ডকে। পাকিস্তানও কি একই পথে হাঁটবে, না কি আইসিসির চাপে নতি স্বীকার করবে, তার উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই।
ভারত বর্জনে কত বড় মূল্য দিতে হবে পাকিস্তানকে?
বর্জনের চড়া মাশুল! পিসিবির এক পদক্ষেপে টালমাটাল ক্রিকেট বাণিজ্য