ভারত বনাম পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের সরকারি সিদ্ধান্তের পর যখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে, তখন পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার এমন পদক্ষেপকে জোরালো সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি বাহাবা দিয়েছেন। এমনকি তারা আইসিসিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ভারতের 'করমর্দন না করার নীতি' দীর্ঘ দিনের। এটা নতুন কিছু নেই। অতীতেও বহুবার ঘটেছে।
গত ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকার দলকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি দিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় এ- গ্রুপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। মূলত আসর থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণাটি আইসিসির কাছে মোটেও সুখকর হয়নি। যদিও পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই অবস্থানের কথা আইসিসিকে জানায়নি, তবুও সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, বর্জনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার ফল ভোগ করতে হবে। তবে এর মাঝেই পাকিস্তানের সাবেক খেলোয়াড়দের কণ্ঠে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি জোরালো সমর্থন শোনা যাচ্ছে।
এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিবৃতির মাধ্যমে নয়, বরং সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই প্রমাণ করুন যে আপনারা নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং প্রতিটি সদস্য দেশের প্রতি ন্যায়বিচার করেন।
সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ আরও এক ধাপ এগিয়ে আইসিসির বিরুদ্ধে ‘নির্বাচিত প্রভাব’ এর অভিযোগ তোলেন। তিনি এক্সে লেখেন, আমাদের সরকারের নেয়া এটি একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় অবস্থান। বাণিজ্যিক স্বার্থের আগে নীতিকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিশ্ব ক্রিকেটে এই ‘নির্বাচিত’ প্রভাবের অবসান হওয়া প্রয়োজন যাতে খেলাটি সত্যিকারের বৈশ্বিক হয়ে উঠতে পারে। আমরা গর্বের সাথে খেলি, কিন্তু আমরা খেলায় সাম্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষেও দাঁড়াই।
সাবেক উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ আইসিসির নিষেধাজ্ঞার হুমকির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অতীতে বৈশ্বিক আসরে বিভিন্ন দলের ম্যাচ ছেড়ে দেয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, তখন সেই দলগুলোকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। তিনি বলেন, আইসিসির উপলব্ধি করা উচিত, এবার তারা ‘চেকমেট’ হয়েছে।
এদিকে বিশ্লেষক ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার সিকান্দার বখত জিও নিউজের সাথে আলাপকালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের দীর্ঘদিনের অসহযোগিতামূলক আচরণের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভারত পুরো বিশ্বের সাথে করমর্দন করে, শুধু আমাদের সাথেই করে না। তারা সবার কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু একজন পাকিস্তানির কাছ থেকে ট্রফি নিতে তারা অস্বীকার করে- এমনকি যদি সেই ব্যক্তি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতিও হন।
তিনি আরও যোগ করেন, তারা যখন এমনটা করতে পারে, আমরাও পারি। এটি একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত- আমরা সারাবিশ্বের সাথে ক্রিকেট খেলব, কিন্তু ভারতের সাথে নয়।
‘ভারত’ ম্যাচ বর্জন নিয়ে বোমা ফাটালেন পাকিস্তান অধিনায়ক
জরুরি বৈঠকে বসছে আইসিসি, পাকিস্তানের ওপর বড় শাস্তির খাঁড়া!