বিএনপি জানালে পুনঃতফসিল বিবেচনা করবে ইসি

কে নির্বাচনে আসবে আর কে আসবে না সেটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটে আসার কথা জানালে তফসিল পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

বুধবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার,সহকারি রিটানিং অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আনছিুর রহমান মতবিনিময় করেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে আসা, না আসা এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। ৪৪টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কেউ যদি না আসে, তাহলে নির্বাচন থেকে পিছিয়ে যাওয়া সুযোগ নেই। যথাসময়ে নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। নির্বাচন করা ছাড়া কোনো গতি নেই।

সোমবার নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেছেন, যেসব রাজনৈতিক দল এখনও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ঢোকেনি, তারা আসতে চাইলে আইন মেনে তাদের নির্বাচনে আসার পথ তৈরি করা হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ধরনের সহায়তা চাইলে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেবে ইসি।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে ভোটের তারিখ পেছাতে আপত্তি নেই বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

সেই একই সুরেই কথা বলেছেন কমিশনার আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলগুলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলে পুনঃতফসিল দেওয়ার কথা বিবেচনা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে বিএনপিকে ফরমালি (আনুষ্ঠানিকভাবে) ভোটে আসার কথা জানাতে হবে।

বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, তফসিল পরিবর্তন হলে তাতে তাদের আপত্তি নেই।

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হরতাল-অবরোধের থাকা বিএনপি তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখা যাক পরিস্থিতি কোথায় যায়। আমরা পযর্বেক্ষণ করছি।

আনিছুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্যই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। সেটা থেকে পিছ পা হবো না। আর তার জন্যই ও রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার ,সহকারী রিটানিং অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে  মতবিনিময় সভা। কোন মতেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

আনিছুর রহমান বলেন, কত পার্সেন্ট ভোটার ভোট দিলো, সেটা বিবেচ্য বিষয় না। বিবেচ্য বিষয় হলো, ভোট হয়েছে তার ভিত্তিতেই ফলাফল হবে। যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন।

এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, চাদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াৎ হোসেন, চাদঁপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সন্ধ্যায় নোয়াখালীতে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠেকর পর সাংবাদিকদের আনিছুর রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে তফসিল পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, করার সুযোগও আছে। সে পরিমান স্পেসও আছে আমাদের কাছে। ২০১৮ সালেও তারা (বিএনপি) পরে আসার কারনে তখনকার কমিশন তফসিল পরিবর্তন করেছিলো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যদি ভোট কেন্দ্রে আসে এবং ভোট দেয় তাহলে এটিকে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন বলা যাবে। ৪৪ টি নিবন্ধিত দলের বেশিরভাগই আমাদের ডাকে এসেছে। একটি সংখ্যক আসেনি। কে নির্বাচনে আসবে, না আসবে সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। আমাদের হস্তক্ষেপ করার বিষয় নয় এবং কার কত ভোটার সেটিও আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের বিবেচ্য বিষয় হলো ভোটাররা উপস্থিত হবে,প্রার্থীরা আছে, ভোট দিবেন এবং ভোট দেয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষনে যত বেশি দেশ ও পর্যবেক্ষক আসবে সেটি আমাদের জন্য ভালো। আমরা কাউকে নিষেধ করবো না।