সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেননি রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে মঙ্গলবার এক ভিন্নধর্মী ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান শেষ হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।

তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করেছেন। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শপথকক্ষে এক ধরণের নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দ্বিতীয় ধাপে জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। জামায়াতের ৬৮ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং এর পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।


তবে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর যখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন তাঁরা দুজনেই শপথকক্ষ ত্যাগ করেন। বিএনপি আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল, তারা বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের অংশ হবে না।

এদিন সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানিয়েছিলেন, বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়, তবে জামায়াতও নেবে না। তবে পরবর্তীতে দলগত সিদ্ধান্তে জামায়াত দুটি শপথে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে, ১২টার দিকে জামায়াত ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিতে বাধ্য হন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মাওলার পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।


১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবসের জন্য এই ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হয়েছে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন, দলীয় সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবনির্বাচিত এমপিরা নিজ নিজ আসন উল্লেখ করে শপথপত্রে সই করেন। এদিকে, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তাঁর নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবেন। সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করবে।