বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী মির্জা ফয়সল আমীন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, আসনটির মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের গণনায় বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে বড় চমক দেখালেন মির্জা ফয়সল আমীন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।

এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ছাড়াও অন্য প্রার্থীরা ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভোটদানে মোতায়েন ছিল বিশাল কড়াকড়ি ও নিরাপত্তাবলয়। ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্যের পাশাপাশি নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক পুরো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় নিয়ম অনুযায়ী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের খালি হওয়া সেই আসনেই বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন মির্জা ফয়সল আমীন।