জরুরি ভিত্তিতে ইসি গঠনে আইন করার প্রস্তাব ওয়ার্কার্স পার্টির

আগামী সংসদ অধিবেশনের আগেই জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন উপস্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে বঙ্গভবনে সংলাপে বসে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা ইসি গঠনে আইন করা এ প্রস্তাব দেন। 

এর আগে একই দিন বিকেল চারটায় দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে বৈঠকে বসেন। 

ওই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, কামরূল আহসান, আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান ও নজরুল ইসলাম হক্কানী।  

সংলাপে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে ইসি গঠনে ছয়টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাশেদ খান বলেন, আইনমন্ত্রী আইন প্রণয়নের যথেষ্ট সময় না থাকার কথা বললেও পার্লামেন্টেই উদাহরণ আছে যে, এর চেয়েও কম সময়ে আইন প্রণয়ন কেবল নয়, সংবিধানও সংশোধন হয়েছে। সংবিধানকে অনুসরণ করতে হবে। যদি একান্তই আইন প্রণয়ন না করা হয় তবে যে সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও সার্চ কমিটির দেওয়া নামগুলোর সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির যাচাই বাছাইয়ের পর রাষ্ট্রপতিকে পাঠাতে করতে হবে এবং তিনিই সেই তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করবেন।

মেনন জানান,  ওয়ার্কার্স পার্টি রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ করার প্রস্তাব দিয়েছে। 

ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, এই আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ নিয়োগের জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল থাকবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে এই সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠিত হবে।

এই সাংবিধানিক কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতি তাদের পরামর্শমত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ করবেন।

দলটির প্রতিনিধিরা বলেন, সার্চ কমিটি তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রতি পদে চার জনের নাম প্রস্তাব করবে। 

সার্চ কমিটির দেওয়া নামের তালিকা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি বাছাই করে সেখান থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে। রাষ্ট্রপতি ঐ তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেবেন।

আরও পড়ুন: আমেরিকার মুখে ন্যায় বিচারের কথা দুঃখজনক: প্রধানমন্ত্রী

ওয়ার্কার্স পার্টির অন্য প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে  

# নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এর প্রতি তদ্রুপ মান্যতা ও মর্যাদা থাকতে হবে যাতে করে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারে।

# সংবিধানের ১১৮ বিধি বাস্তবায়নার্থে আইনের বিধানাবলি অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি আইন তৈরি করতে হবে। 

#নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুই জন নারী সদস্য থাকবেন। 

#নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইনসমূহের যথাযোগ্য প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।


একাত্তর/এসি