বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য পদ সৃজন করে নিয়োগের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আর জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা।
দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থি সকল সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ পরিষদ। শনিবারের (২৫ অক্টোবর) এ সেমিনারে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আলোচনায় বক্তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক পদ সৃজন করা হবে। যে জাতি ধর্মীয় ও নৈতিকতার ওপর সমুন্নত থাকে, তার পরাজয় হয় না।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে কিছু সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে। নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত কোনো জাতি শক্তিশালী জাতি হিসেবে পরিচয় লাভ করতে পারে না।
আলোচনায় যোগ দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এনসিপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাসঙ্গিকতা ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা হবে। শিক্ষার্থীদের জিপিএ ফাইভের প্রণোদনা দিয়ে মূল্যবোধ কেড়ে নিয়েছিলো শেখ হাসিনা। এভাবে সকলকে কোনো না কোনো প্রণোদনা দিয়ে ফ্যাসিজম বহাল রেখেছিলো। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতে দেশ চলবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সেটি বিরাজমান থাকবে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে নৈতিকতাবিরোধী অবস্থান থেকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।