হি লাভস অ্যান আইসিসি ইভেন্ট- মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সম্পর্কে এমনটাই বললেন সাবেক ইংলিশ ক্যাপ্টেন নাসের হোসাইন। আফসোস, এই রিয়াদকেই কিনা রাখা হয়েছিলো বিশ্বকাপ দলের পরিকল্পনার বাইরে।
সেই রিয়াদই সেঞ্চুরি করে বিশ্বমঞ্চে খানিকটা মান বাঁচালেন বাংলাদেশ দলের। সমর্থক থেকে বিশ্লেষক সবাই বলছেন বাজে সিদ্ধান্তে নষ্ট করা হয়েছে রিয়াদকে।
নি:শব্দে কেমন করে নিজের কাজটা করে যেতে হয় সেটা তার চেয়ে ভালো আর কে বা জানে? এই একেকটা বোবা ছবিও আজ মুখ ফুটে বলতে চায় তুমিই সেই লোন ওয়ারিওর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
শুধুই সমর্থক নয়, দেশি বিদেশি গণমাধ্যমেও আজ রিয়াদের স্তুতি। কারোই তো অজানা নয় ৩৭ এর এই রিযাদকে নিয়ে সাজানো হয়েছিলো নজিরবিহীন নাটক।
আমরা নতুন, আমরা উদ্যম আমরা যৌবনের দূত, বৃদ্ধ রিয়াদ এ পাড়ায় তোমার ঠাঁই নাই আর। ফিটনেস, রিফ্লেক্স, স্ট্রাইকরেট, মডার্ন ক্রিকেটে অচল পয়সা তুমি।
অতএব, তাকে ছেঁটে ফেলেই সফলতার স্ক্রিপ্ট লিখতে চাইলো ওরা। বিধাতা অলক্ষ্যে মুচকি হাসে। সবইতো সেলুকাস বিচিত্র এই জীবনের খেলা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় কে জানে।
কত দিকে কত কথা, তবুও কোন কন্ট্রোভার্সি তাকে ছুতে পারে না। রিয়াদ একেবারে চুপ, চালিয়ে যান তার একার লড়াই। ভেতরে ভেতরে রিয়াদ কেবল পাগলের মতো দৌড়ায় সুযোগের জন্য জাস্ট একটা সুযোগের।
রোজা রেখে তীব্র গরমে খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ। যেখানে যখন সুযোগ পেয়েছেন চালিয়ে গেছেন অনুশীলন। সব জল্পনা কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপে ফিরলেন রিযাদ।
তবে তার পরীক্ষা যেন শেষ হওয়ার নয়, এবারে তার নতুন অ্যাসাইনমেন্ট ফিনিশার রিয়াদ যে হয়ে গেলেন টেলএন্ডার। এই লড়াইয়েও সাইলেন্ট কিলার ভীষণ একা।
আট, সাত অবশেষে ফিরে পেলেন নিজের ছয় নম্বর জায়গাটা। ফিরেই দেখালেন ফাইন ওয়ানের ভেলকি। এই রিয়াদকে দিনের পরদিন নষ্ট করায় আবারো খেপেছেন লেজেন্ডারি ক্রিকেটাররা।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম বলছেন, পুরো ম্যাচ শেষ করে দিয়ে রিয়াদেকে কোন বিবেচনায় এতো নিচে খেলানো হয় তিনি বুঝতে পারেন না।
ওয়াসিম আকরাম বলেন, এমন ফিনিশার রেখে কী হবে, যখন আপনার ৪০ রানেই ৪ উইকেট থাকে না? তখন তো ফিনিশার কিছু করতে পারবে না।
আরেক সাবেক ক্রিকেটার মিসবাহ হক তো বলেছেন, মাহমুদউল্লাহর স্কিলকে রীতিমতো অপচয় করেছে বাংলাদেশ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মোট ছয়টা সেঞ্চুরি যার অর্ধেরেই মালিক এই অচল বুড়িয়ে যাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১১ চার এবং ৪ ছয় দিয়ে সাজানো ইনিংসে দেখিয়ে তার লাস্ট ডান্স।
রিয়াদরা শুধু দেখিয়েই চলেন এতো কিছুর পরও তাদের থাকে না কোনো অন্তর্দাহও, থাকে না অসুস্থ প্রতিশোধের নেশা। কারণ ভালোই জানতেন জীবন ঠিক শোধ করে দেবে তার প্রাপ্য গোল।