কেইনের ওপর অভিশাপ তুলে নিলেন ঘানার জাদুকর!

ফুটবল মাঠে গোল করা বা আটকানো সব সময়ই খেলোয়াড়দের কৌশলের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু ঘানার বিখ্যাত ‘উইচ ডক্টর’ নানা কোয়াকু বোনসামের দাবি অনুযায়ী, সব কিছুর পেছনে রয়েছে আধ্যাত্মিক শক্তি! সম্প্রতি ইংল্যান্ডের তারকা ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইনকে রুখে দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন এই ঘানাইয়ান শাম্যান।

ঘানা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, কেইন যাতে গোল না করতে পারেন, তার জন্য তিনি ‘কাজ’ করছেন। অবাক করা বিষয় হলো, ম্যাচে সত্যি সত্যি কেন গোল পাননি এবং ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। কেইনের গোল মিস করার দৃশ্য দেখে অনেকেই বোনসামের সেই অভিশাপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন।

নিজের আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ার পর এবার ভোল পাল্টালেন বোনসাম। নিজেকে ‘আফ্রিকার একমাত্র খাঁটি মানুষ’দাবি করা এই জাদুকর জানিয়েছেন, তিনি আর কেইনের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব রাখবেন না। বরং উল্টো ঘোষণা দিয়েছেন, হ্যারি কেইন যাতে পরবর্তী ম্যাচে গোল পান, সেজন্য তিনি একটি বিশেষ মন্ত্র প্রয়োগ করবেন। বোনসাম আরও এক ধাপ এগিয়ে কেইনকে বন্ধু সম্বোধন করে বার্তা দিয়েছেন, হ্যারি, আমি তোমাকে দেখতে আসব। মনে কিছু করো না, আমরা ভাই! শুধু তাই নয়, কেইনের সাথে যোগাযোগের জন্য তিনি তার ব্যক্তিগত ফোন নম্বর পর্যন্ত প্রকাশ করে দিয়েছেন!

তবে বোনসামের কালো জাদুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠে নেমেছিলেন বিখ্যাত মেন্টালিস্ট উরি গেলার। টেলিভিশনের পর্দায় চামচ বাঁকানোর ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত গেলার ঘোষণা করেছিলেন, তিনি হ্যারি কেইনকে যে কোনো ধরনের অভিশাপ বা আধ্যাত্মিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করবেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ম্যাচ শুরুর আগে তিনি তার সব শক্তি ও ইতিবাচক ভাইব কেনের দিকে পাঠিয়ে দেবেন, যাতে ঘানার এই জাদুকরের কোনো নেতিবাচক প্রভাব কেনের ওপর না পড়ে।

উল্লেখ্য যে, নানা কোয়াকু বোনসাম অতীতে ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হাঁটুতে চোট পাওয়ার পেছনেও নিজের দায় স্বীকার করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের দক্ষতা নাকি এসব অতীন্দ্রিয় শক্তির খেলা, এই প্রশ্নএখনো ভক্তদের মাঝে অমীমাংসিত। তবে হ্যারি কেনের জন্য ঘানার এই জাদুকরের পক্ষ থেকে এখন আশীর্বাদের বার্তা আসায় ফুটবলপ্রেমীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে। এখন দেখার বিষয়, বোনসামের নতুন এই ‘গোল পাওয়ার স্পেল’ কেনের বুটে কতটা জাদুর ছোঁয়া দেয়, নাকি মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মই জয়ী হয়!