প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, মাঠের বাইরের একাকিত্ব আর ইনজুরির অভিশাপ, সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে শেষ ২০ মিনিটের জন্য যখন তিনি মাঠে নামলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো ভক্তের উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, ফুটবলের আসল শিল্পী ফিরে এসেছে।
মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে দলের বাইরে থাকা নেইমারকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কিছুটা মরিচা ধরা মনে হলেও, তার পায়ের কারুকাজ আর ক্ষিপ্রতা বুঝিয়ে দিল, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেইমার যেন ফিরে গেলেন পুরোনো দিনে। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে পেরে আমি প্রচণ্ড আনন্দিত। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকাটা মানসিকভাবে খুব কঠিন ছিল, তবে আমি হাল ছাড়িনি। গত ২৫ দিন ধরে কঠোর অনুশীলন করেছি, যাতে এই বিশ্বকাপে নিজেকে ফিট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি। মাঠের প্রতিটি সেকেন্ড তার জন্য ছিল আবেগের এক সংমিশ্রণ, যা তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন।
ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চিরচেনা রসিক মেজাজে ধরা দিলেন এই তারকা। কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল আর নিজের খেলার সময় নিয়ে এক হাত নিলেন তিনি। সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করলেন তিনি আরও বেশি সময় খেলার মতো ফিট কি না, তখন শুধুই রসিকতা করে নেইমার বলে বসলেন, আমি তো ২০০ মিনিট খেলতে চাই! মাঠের ভেতরে যেমন প্রতিপক্ষকে বোকা বানান, তেমনি মাঠের বাইরেও তার এই সরস উত্তর বুঝিয়ে দিল, নেইমার শুধু ফিরে আসেননি, বরং তিনি ফিরে এসেছেন নিজের চেনা দাপট আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে ব্রাজিল এখন নকআউট রাউন্ডের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। যদিও নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল, তবে তিনি নিজে দাবি করেছেন তার শারীরিক অবস্থা এখন চমৎকার। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর ব্রাজিলের আক্রমণে যে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো, তা নিশ্চিতভাবেই দুশ্চিন্তায় ফেলবে পরবর্তী প্রতিপক্ষদের। এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নেইমার কি নকআউট পর্বে শুরু থেকেই মূল একাদশে জায়গা পান, নাকি তার এই ‘২০০ মিনিটের’ আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে কোচের বিশেষ কোনো রণকৌশলের অপেক্ষায় থাকতে হয়! তবে এটুকু নিশ্চিত, নেইমার আছেন এবং তিনি খেলছেন, ফুটবল ভক্তদের জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর কী হতে পারে?
মেসি জানে আমি তাকে কতটা ভালোবাসি: নেইমার
সাজঘরে ফিরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নেইমার!