একসময় সাগরের পানিতে ডুবে থাকা ভূমিটাই বর্তমানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর। চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় এই শিল্প নগরে কারখানা স্থাপন ও উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে চলছে ২১টি কারখানার নির্মাণ কাজ। এরি মধ্যে পাঁচটিতে শুরু হয়েছে উৎপাদন। চলতি বছরেই উৎপাদনে যাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও পোশাক খাতের কাঁচামাল হিসেবে কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠান।
এরই মধ্যে শিল্প নগরীতে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব মিলেছে বলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) থেকে জানানো হয়েছে।
বেজা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি এবং ১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো ৫৩টি সেবা অন লাইনে পাওয়া যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে। আর বাকিগুলো পাওয়া যাচ্ছে অফলাইনে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এক জায়গায় সব সেবা দ্রুত সময়ে পাওয়ার ফলে শিল্প স্থাপন এবং উৎপাদনে গতি আসবে।
সামুদা কনস্ট্রাকশনের পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখানে যে ইউটিলিটি সুবিধাগুলো আছে তা আমাদের আকৃষ্ট করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাগুলোর কাজ আরও গতিশীল করা গেলে আমরা দ্রুততার সঙ্গে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হব।’
শিল্প নগরীতে স্থাপিত হওয়া বাংলাদেশের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাজও চলছে জোরেশোরে। চলতি বছরই উৎপাদনে যাবে কারখানাটি। করছাড় ও বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি এখানে বিনিয়োগ করেছে প্রায় এক হাজার ৪৪০ কোটি টাকা।

ম্যাঙ্গো সিএ- এর চেয়ারম্যান এ মান্নান খাঁন বলেন, প্রত্যেকটা দেশই চাইবে এই বাজারটাকে দখল করার জন্য। তবে দেশীয় উদ্যোক্তারা যদি এখানে ১০ বছরের জন্য সুবিধা পায়, তাহলে দেখবেন পাঁচ থেকে সাতটা বড় বড় কোম্পানি তৈরি হবে, যারা গাড়ি উৎপাদন করবে।
পোশাক খাতের অন্যতম কাঁচামাল কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনের প্রথম কারখানাও স্থাপন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরীতে। বিনিয়োগকারী বলছেন, দেশের চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ পূরণ হবে কারখানাটি থেকেই।
বেজা কর্তৃপক্ষ বলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরীতে থাকছে কেন্দ্রীয় তিনটি বর্জ্য শোধনাগার। কমপ্লায়েন্স বিবেচনায় ৩৩ হাজার একর আয়তনের এই শিল্প নগরীর ১৭ হাজার একর ভূমিতে কারখানা স্থাপন করা যাবে। বাকিটা থাকবে সবুজায়ন এবং উন্মুক্ত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ফারুক বলেন, বেজার হাতে যে এই মুহূর্তে খুব বেশি জমি পড়ে আছে এরকম নয়। যাদের খুব জরুরি তাদেরকে আমরা সুবিধাগুলো দিয়ে দিচ্ছি।
বেশি সিসির বাইক আমদানি নিয়ে যেসব পরিকল্পনা