সরকারি হিসেবেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি টানা ২২ মাস গড়ে ৯ শতাংশের উপরে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গেলো বছর যখন বাজেট পেশ হয় তখনকার তুলনায় এখন ১০টি জরুরি খাদ্যপণ্যের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে, বাজেটে ‘সামাজিক সুরক্ষা খাতে’ বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।
মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ এর এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার যখন থেকেছে ৯.৪১ থেকে ৯.৯৪ শতাংশের ঘরে, তখন মজুরি বৃদ্ধির হার ৭.৩২ থেকে ৭.৮৫ শতাংশে থেকেছে। এটি সরকারেই হিসেব। এমন প্রেক্ষিতে, শুধু দিনমজুর নয় দুর্দশায় আছে দেশের সিংহভাগ মানুষ।

গত এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিলো ১০.২২ শতাংশ। অক্টোবরে তা ১২.৫৬ শতাংশ ওঠে, যা ১২ বছরে সর্বোচ্চ। এবার এপ্রিলে সেটি ৯.৭৪ শতাংশ নামলেও টানা ২২ মাস ধরেই গড়ে ৯ শতাংশের উপরে আছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি।
গত বছরের বাড়তি দামের উপর দাম আরও বেড়েছে।
টিসিবির তথ্যই বলছে, গত বারের এই সময়ের তুলনায় এখন অন্তত ১০টি পণ্যের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে মুগডাল, রসুন ও হলুদের দাম। মূল্যবৃদ্ধির দৌড়ে আছে আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে মাছ-মাংসও। আর চালও পিছিয়ে নেই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক এম এম জুলফিকার আলী এ বিষয়ে বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে চাইলেই হুট করে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যাবে না। তবে, ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের দাম নির্ধারণ এবং নয়-ছয় থেকে বেরিয়ে এসে সুদের হার বাজারের উপর ছেড়ে দেয়ায় আমদানিতে প্রভাব ফেলে তা দেখতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অবশ্য বললেন, অনুৎপাদনশীল খাতের মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে বরং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বেশি রাখলে, গরীব মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়বে।

তিনি বলেন, করমুক্ত আয়সীমা যদি কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া হয়- তাহলে যারা নিচের দিকে আছেন, তাদের কিছুটা বাড়তি ব্যবহারযোগ্য আয় বাড়বে। যেটা হলে তাদের কেনার সামর্থ্য কিছুটা বাড়বে।
দুই অর্থনীতিবিদেরই মত হলো ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। তাই পণ্য আমদানি বা টিসিবির স্থায়ী দোকানের মতো পুরোনো ও ব্যর্থ ব্যবসায় না গিয়ে বরং সরকারের উচিত বাজারে কেউ মনোপলি করে পণ্যের দাম বেশি নিচ্ছে কি না সেখানে কঠোর নজরদারি করা।
বাজেটে দুঃসংবাদ টেলিকমখাতে