মলাট বন্দি হলো ঐতিহ্যবাহী জামদানির নকশা 

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১০ পিএম

নকশার বিকৃতি ও বিলুপ্তির হাত থেকে জামদানি রক্ষায় আদি জামদানির নকশা নিয়ে তৈরি হলো একটি প্রকাশনা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বইটি প্রকাশ করেছে সেবা নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে জামদানির বিলুপ্ত নকশাগুলো যেমন ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

তেমনি নকল ও বিকৃতি থেকেও রক্ষা পাবে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি রক্ষা পাবে বলে জানিয়েছেন প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আদি জামদানি নকশা’ শিরোনামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জামদানি দেশের বস্ত্রশিল্পের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যের প্রতীক। এটি কার্পাস তুলা থেকে তৈরি এক ধরনের সূক্ষ্ম সুতিবস্ত্র। জামদানি বলতে মূলত জামদানি শাড়িকেই বোঝানো হয়। নকশা ও অনন্য বুনন পদ্ধতির কারণে অন্য শাড়ির চেয়ে আলাদা এই শাড়ি।

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নে জামদানি শিল্প বেশি দেখা যায়। কালের আবর্তে জামদানি শিল্প একসময় প্রায় বিলুপ্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমানে শাড়িপ্রেমী বাঙালি নারীর প্রিয় পোশাকের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জামদানি।

বস্ত্রে ফুটিয়ে তোলা ফুল–লতাপাতার মতো সাধারণ নকশাও যে গুপ্তবিদ্যা হতে পারে, তার বড় উদাহরণ হতে পারে জামদানি। শত শত বছর ধরে জামদানি বোনা হচ্ছে, কিন্তু এর নকশা আঁকা থাকে না। সেই নকশা সংরক্ষিত থাকে তাঁতির স্মৃতির মহাফেজখানায়। অথচ এতে রয়েছে অঙ্কের জটিল হিসাব–নিকাশ।

বংশপরম্পরায় এই নকশাগুলো প্রবাহিত হতে থাকে যুগ যুগ ধরে। ঠিক কবে থেকে এবং কীভাবে এই নকশা তৈরি হলো তার কোন সঠিক ইতিহাস না থাকলেও, জামদানির শাড়ির খোঁজ পাওয়া যায় পাঁচশ বছরের আগের ইতিহাসে। মনে করা হয়, ঢাকা যখন সূতির রাজধানী ছিলো, তখন থেকেই জামদানির বুনন শুরু। 

এখন বাজার যেসব জামদানি পাওয়া যায়, সেগুলো নকশাই দেড় থেকে দুশ’ বছরের পুরোনো। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম নিজেদের স্মৃতিতেই এই নকশা ধরে রেখেছেন জামদানি শিল্পীরা। জামদানির এই নকশা বরাবর ছিলো স্মৃতি ও শ্রুতি নির্ভর। গুপ্তবিদ্যার মতো এমন জটিল হিসাবের অন্দরের খবর নেয়ার আগ্রহ আছে অনেকেরই।

সময়ের বাঁকে বাঁকে শিল্পীদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এমন কতো নকশা যে চিরতরে হারিয়ে গেছে সেটি জানারও উপায় নেই। এবার হারিয়ে যাওয়া যাওয়া তেমনি নকশা নিয়ে তৈরি হলো বই। জামদানির ঐতিহ্যবাহী বয়ন শিল্পের নকশা কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে সেবা নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এ বইটি প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের প্রধান পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী আইউব আলী। তিনি বলেন, জামদানিকে টিকিয়ে রাখতে জামদানির ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং বয়ন শিল্পীদের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন জরুরি। বয়নশিল্পকে পরিবেশবান্ধব করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। 

তিনি বলেন, ১৭ প্রকার মসলিনের মধ্যে একটি জামদানি। নারায়ণগঞ্জের তাঁতিরা আদি মসলিনের বংশধর হলেও তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়নি। তাই জামদানি রক্ষায় আরও সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর সেবা নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সাইদা রোকসানা খান বলেন, আমরা পিকেএসএফের একটি প্রকল্পের আওতায় এই বইয়ে ২০০ বছরের জামদানির ঐতিহ্য ও নকশা তুলে ধরেছি এই বইয়ে। 

তিনি জানান, সেবার লক্ষ্য কেবল জামদানিকে টিকিয়ে রাখা নয়, বরং জামদানির ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং বয়ন শিল্পীদের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন, বয়ন শিল্পকে পরিবেশবান্ধব করা। আর এই ঐতিহ্যবাহী বয়ন শিল্পকে কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করা। 

এসইপি প্রজেক্টের আওতায় জামদানি বয়ন ও শিল্পীদের উন্নয়নে নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঋণদান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম, জামদানি শাড়ি বিক্রয় ও প্রচার কেন্দ্র, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয় এই কার্যক্রমে রয়েছে।

জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি চন্দ্রশেখর সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ও জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কারুশিল্প পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুর রহমান প্রমুখ।

এআরএস
বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের কিংবদন্তি প্রকাশক ও অবসর প্রকাশনীর কর্ণধার আলমগীর রহমান মারা গেছেন৷
বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকটের মধ্যেও ঋণ পরিশোধ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বেজার্ড। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর