পবিত্র মক্কা ও মদিনা ইরানের কাছে ‘রেডলাইন’ উল্লেখ করে সেখানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ডা. জলিল রহিমি জাহানাবাদী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত রুট অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা জানান।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। এই নৌপথ ঘিরে সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ধাক্কা এসে পড়ছে বাংলাদেশেও। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে এককভাবে কোনো দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাময়িক সঙ্কট ইরান অনুধাবন করতে পারছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে তিনি বলেন, সমঝোতার নামে কোনো ধরনের আত্মসমর্পণ মেনে নেবে না ইরান। সংঘাতের তৃতীয় দফায় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে ইরানও সমানভাবে তার জবাব দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল পরাজিত হলেও দেশটির ইরাননীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন তিনি।
আরব দেশগুলোতে পশ্চিমা উপস্থিতির সমালোচনা করে জলিল রহিমি বলেন, ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকলে ইরান কখনোই সেখানে হামলা করত না। তবে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনা ইরানের কাছে রেডলাইন।
অঞ্চলটির সার্বিক সুরক্ষায় পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া ইরানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ‘মক্কা চুক্তি’ করার আহবান জানান এই কূটনীতিক। তার মতে, মক্কা চুক্তিতে ইরান ও মিশর যোগ দিলে ইসরাইল ‘আর্কাইভে’ চলে যাবে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, হুতি, ইসলামিক জিহাদ, হামাস ও হিজবুল্লাহসহ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরান রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সমর্থন করে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলমানরা যদি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে, তবে ইরান তাদেরও সমর্থন দেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
