টাঙ্গাইলের কাটুই পোকার আক্রমণে সরিষা চাষে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা জানান, এই পোকা রাতের বেলায় গাছের শেকড় কেটে দেয়ায় গাছ মরে যাচ্ছে। কীটনাশক দিয়েও কোন সুবিধা করতে পারছেন না কৃষকরা।
ঋতুচক্রে এখন শীতকাল, টাঙ্গাইল জেলার বিস্তৃর্ণ অঞ্চলজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। ইতোমধ্যে দিগন্তজুড়ে হলুদ ফুলে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে কৃষক।
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সরিষার আবাদ বেশি হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। কারণ, পোকার আক্রমণ।
কাটুই পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষকরা। দিনের বেলায় মাটির ভেতরে লুকিয়ে থাকলেও নিশাচর এ পোকা রাতে আক্রমন করছে সরিষার ক্ষেতে। কেটে দিচ্ছে গাছের শেকড়।
কাটুই পোকা ছোট আকারের মথ, হালকা বাদামি রংয়ের দুই জোড়া পাখা আছে। এটি রাতের বেলায় চলাচল করে।
আরও পড়ুন: অনিশ্চয়তার পরও নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই উৎসব
ভেতরের পাখাতে ধুসর শিরা সবা জালিকা দেখা যায়। কীড়ার রং বেগুনি থেকে বাদামি বেগুনি। এই পোকা রাতে চারা গাছের গোড়া কেটে ফেলে।
কীড়া অবস্থায় এই পোকা দিনের বেলা মাটির ফাটলে বা গর্তে লুকিয়ে থাকে। রাতের বেলা বের হয়ে চারা গাছের গোড়ায় মাটি বরাবর কেটে দেয়। যা খায় তার চেয়ে বেশি কেটে নষ্ট করে।
এদের কারণে টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, নাগরপুর উপজেলা এলাকার বিস্তীর্ণ জমির সরিষা ক্ষেত ফাঁকা পড়ে আছে। একাধিকবার বীজ রোপণ করেও ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকরা।
যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, কাটুই পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে কৃষকদের দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৫ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সরিষার চাষ হয়েছে ৫০ হাজার ৪শ ৮৮ হেক্টর জমিতে।
একাত্তর/টিএ
