নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানায় প্রতারণার অভিযোগকারী এক নারীকে অশ্রাব্য-অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে এক উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সোমবার (১৭ অক্টোবর) পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রতন মিয়াকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত (ক্লোজড) করেছেন।
সেইসাথে ঘটনাটির প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিদর্শক (অপরাধ) এনামুল হককে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সম্পর্কের কারণে বিষয়টি সমাধানে এসআই রতন তৎপর ছিলেন। কিন্তু গালিগালাজের যে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়েছে তা দুঃখজনক এবং রোববার রাতেই রাতেই এসআই (নিরস্ত্র) মো. রতন মিয়াকে ক্লোজড করে নোয়াখালী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী সেতারা বেগম (৫৭) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আকবর হাজী বাড়ির মৃত আবুবক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দিন সকালে ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে বারণ করেন এসআই রতন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, সাত মাস আগে তার ছেলে নুরনবীকে (২৭) প্রতারণা করে সৌদি আরব নিয়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেহের আলী কামলা বাড়ির সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। কথা ছিল সাইফুল সৌদি নিয়ে নুরনবীকে আবাসিক হোটেলে চাকরি দেবেন।
কিন্তু গত সাত মাসেও তিনি নুরনবীকে কোনো চাকরি দিতে পারেননি। একপর্যায়ে আকামা করার জন্য পুনরায় তিনি এক হাজার রিয়াল নেন। এখানেও সাইফুল প্রতারণা করে নুরনবীকে খুরুজ লাগানো আকামা দেন। এ কারণে কেউ তাকে আকামা দেখে কাজ দেয়নি।
সেতারা বেগম আরও জানান, এসব প্রতারণার অভিযোগ তুলে ১৫-২০ দিন আগে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে বিবাদী করা হয় সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মা-বাবা ও স্ত্রীকে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি এ অভিযোগের তদন্ত করার দায়িত্ব দেন এসআই রতনকে। সমস্যার সমাধান করতে রতন সেতারা বেগমের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তাকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল।
সেতারা বেগম বলেন, গত শুক্রবার প্রথম বৈঠকে থানায় বিবাদী পক্ষের কেউ আসেনি। দ্বিতীয় বৈঠক বসার জন্য এসআই রতন বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে বৈঠকে বসার বিষয়ে অবহিত করে আসেন। তারপর শনিবার সন্ধ্যার দিকে এসআই রতন বাদীকে ফোন দিয়ে জানান থানায় কোনো বৈঠক হবেনা। বৈঠক হবে বসুরহাট বাজারের হক হোটেলে।
এ নিয়ে অভিযোগকারী নারী রেস্তোরাঁয় গিয়ে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানালে এসআই রতন ওই নারীকে মুঠোফোনে অশ্রাব্য-অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তখন মুঠোফোনে ওই নারী এসআই রতনকে বলেন, থানায় অভিযোগ করেছি বৈঠকও থানায় হবে।
এরপর এসআই রতন তাকে থানার গেটে আসতে বলেন। ওই নারী থানার গেটের ভিতরে প্রবেশ করলে এসআই রতন তাকে অশ্লীল ভাষায় সবার সামনে গালমন্দ করেন। পরে সেতারা বেগম কাঁদতে কাঁদতে থানা থেকে চলে যান।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করে আরও বলেন, একজন মাকে তার ছেলের সামনে প্রকাশ্যে এভাবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গালিগালাজ করতে পারে তা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায়না। এ ঘটনায় তিনি এসআই রতনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের কাছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিকাশ এজেন্টের মরদেহ উদ্ধার
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রতন মিয়া বলেন, ওই নারী থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। তার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলেন।
তবে হোটেলে বৈঠকে না যাওয়া তিনি রাগের মাথায় একটু উত্তেজিত হয়ে ওই নারীর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করলেও, ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে শাসানো এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, রতন মিয়া পুলিশ বাহিনীর মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর এসআই পদমর্যাদায় দায়িত্ববান অফিসার হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্য দিবালোকে তার এ ধরনের আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পরিদর্শক (অপরাধ) এনামুল হককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একাত্তর/এসজে
