নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শরীফ উদ্দীনকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ জজ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী মোর্শেদ আল মামুন ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শরীফ উদ্দীনসহ জেলা ও দায়রা জজ পদ মর্যাদার আরো ৯ বিচারককে বদলী করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে প্রকাশিত হয়।
জানা যায় নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শরীফ উদ্দিনের বদলীর বিষয়ে নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন দুর্নীতির অভিযোগ তাকে বদলী করা হয়েছে।
নাটোর আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মালেক শেখ বলেন, জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শরীফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অনেক অভিযোগ আছে। সেকারণে তাকে জেলা আইনজীবি সমিতি থেকে কোন বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হবে না। যদিও আইনজীবি সমিতির রেজুলেশন এবং রীতি (কাস্টম) আছে জেলা ও দায়রা জজ পদ মর্যাদার বিচারকদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়ার কিন্তু মোঃ শরীফ উদ্দিনকে দেয়া হবে না। যদি কোন জজ দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকেন তাদেরকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়না।
নাটোর জজ কোর্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জাতিয়তাবাদি আইনজীবি ফোরামের সদস্য এডভোকেট শরিফুল হক মুক্তা বলেন, জেলা ও দায়রা জজ নাটোরের বিচার বিভাগকে শেষ করে ফেলেছে। তিনি একজন ঘুষখোর বিচারক। তার বদলীতে নাটোরের লোক বাঁচবে। সাধারন মানুষ তার কাছে কোন বিচার পায়নি। এইসব বিচারক ঘুষ খায় কিন্তু তাদের দেখার কেউ নাই।
নাটোর জজকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শরীফ উদ্দীন নাটোরে দায়িত্ব নেয়ার মাস খানেক পর থেকে নাটোর জজ কোর্টকে দুর্নীতির ভাগার বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি বিচারের নামে নাটোরে অবিচার শুরু করেছেন। উনি টাকার বিনিময়ে বিচার বিক্রি করেছেন। ফলে নাটোরের বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তার বদলীতে আমরা শুধু খুশিই নয়। আমরা তার দুর্নীতির বিচার দাবি করে সুপ্রীম কোর্ট, আইন মন্ত্রনালয় এবং দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছিলাম। সেকারণেই হয়তো তাকে কোন জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এ সংক্রান্ত অভিযোগের একটা কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
