নরসিংদীতে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্রে দেখা করতে গিয়ে এক গৃহবধূ (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে জেলার মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হৃদয় মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হৃদয় কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামে। বর্তমানে তিনি মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন। গত ৩-৪ দিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হৃদয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ও কথা বলা শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী কেনাকাটা শেষে হৃদয় তার সঙ্গে দেখা করতে যান। রাতে খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় হৃদয় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে হৃদয়সহ আরও তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। পরে অভিযুক্তরা ওই নারীর মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নিয়ে তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
ঘটনার পর ওই নারী দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ার লুম কারখানায় আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি শ্রমিকদের জানান। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভুক্তভোগী নারী প্রথমে আড়াইহাজার থানায় জানালে তারা আমাদের বিষয়টি অবহিত করে। আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং আমাদের কার্যক্রম শুরু করি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। বাকি অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।
