সৃজনশীল প্রশ্নে থাকছে না সৃজনশীলতা। ১৪ বছর ধরে এমন ধরনের প্রশ্ন তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছেন শিক্ষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে ৬০ ভাগ শিক্ষক সৃজনশীল প্রশ্নে সক্ষম হলেও বাকিরা পারেন না। এ কারণে প্রতি বছরই কোন না কোন বিতর্কের জন্ম হচ্ছে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্নে এবার সাম্প্রদায়িকতার উস্কানির অভিযোগে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। একই পরীক্ষার কারিগরি শাখায় লেখক আনিসুল হককে নিয়ে অবমাননাকর প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার বাংলা প্রথম প্রশ্নপত্রের প্রথম দিনেই সৃজনশীল নামক প্রশ্নপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখিত প্রশ্নপত্রের এগার নম্বর প্রশ্ন নিয়ে মূলধারার টিভি চ্যানেলসহ সবস্তরে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ উঠেছে।
কয়েক বছর আগে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নে পর্ন তারকা মিয়া খলিফা ও সানি লিয়নের প্রসঙ্গ রাখা হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে সৃজনশীল প্রশ্নে সৃজনশীলতার চর্চা কতোটা হচ্ছে?
২০১০ সালে দেশে বাংলা প্রথম পত্র ও ধর্মশিক্ষা এবং ২০১১ সাল থেকে সব বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহ যোগাতে এমন প্রশ্ন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়।

যেসব প্রশ্নের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মেধার জড়ত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীন, স্বতঃস্ফূর্ত ও সৃষ্টিক্ষম করে তোলা যায়, তার নামই সৃজনশীল প্রশ্ন। কিন্তু গেলো ১৪ বছরের এমন প্রশ্ন প্রণয়নে কতোটা সৃজনশীল হলেন শিক্ষকরা?
২০০৯ সালের মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ধর্ম বা সম্প্রদায়কে সৃজনশীল প্রশ্নের বিষয় হিসেবে রাখা যাবে না। যা মানা হয়নি এই প্রশ্নে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে কি ২০০৮ সালে চালু হলেও প্রায় দেড় দশকে সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারছে না শিক্ষকরা?
আরও পড়ুন: ঋণ নিয়েছি ঘি খাওয়ার জন্য নয়: কাদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমানের গবেষণা বলছে ৬০ শতাংশ শিক্ষকই প্রশ্ন তৈরি করতে পারছেন না। মাউশির হিসেবে এই হার ৬২ শতাংশ। এনিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা জানান মাউশির মহাপরিচালক। আর বোর্ড বলছে দায়বোধ বা জবাবদিহিতার ঘাটতির কথা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রশ্ন প্রণয়নই নয় সৃজনশীল অংশের মূল্যায়নেও শিক্ষকদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।
একাত্তর/এসি
