শ্রম আইন অনুযায়ীও গণমাধ্যম কর্মীদের মৌলিক পাওনা দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সম্প্রচার সাংবাদিকতা সুরক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, গণমাধ্যম আইন পাশের আগে সব পক্ষের সাথে কথা হবে।
আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমানে দেশে চালু থাকা টেলিভিশনগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি টেলিভিশন তার কর্মীদের গ্রাচুইটি দেয়। আর মাত্র ৭টিতে চালু আছে প্রভিডেন্ট ফান্ড। বিনা নোটিশে কর্মী ছাটাই করা হয় ১৩টি টেলিভিশনে। বিজেসির পক্ষ থেকে দেশের প্রধান ২৩টি বেসরকারি চ্যানেলের উপর করা জরিপে শ্রম আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরো তুলে ধরা হয়, মাত্র আট শতাংশ স্টেশনে মাসের ১০ তারিখে নিয়মিত বেতন হয়। আর উৎসব ভাতা পায় ৫০ শতাংশে। ১৮টি টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হলে ব্যয় বহন করে না। ১১ ভাগ টেলিভিশনে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি দেয়া হয় না। অর্জিত ছুটি দেয় না বেশিরভাগ বেসরকারি টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান।
মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে সম্প্রচার সাংবাদিক সুরক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচার পাওয়া যায়নি, ঊর্ধ্বতন মহল থেকে আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এখন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সংবাদ কর্মী। তারা বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে গণমাধ্যম আইনের খসড়া হলেও তাতে রয়েছে নানা অসঙ্গতি।
এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, গণমাধ্যমকর্মী আইনের যেসব জায়গায় সাংবাদিকদের আপত্তি আছে সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন এখন সংসদীয় কমিটিতে আছে। এ আইনের বেশ কিছু ধারা নিয়ে সাংবাদিক মহল আপত্তি তুলেছেন। তাই, সেগুলো নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সাংবাদিক নেতা, মালিক পক্ষ এবং প্রয়োজনে আমি থেকে সবার মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য আইন করব। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। এখানে যেসব সমস্যা রয়েছে সবার মতামত নিয়েই সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, এ আইনটি আপনাদের সুরক্ষার জন্য করা হচ্ছে। আপনারাই যেহেতু এই আইনের কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, সেহেতু এগুলোর নিষ্পত্তি করেই আইন করা হবে। এই আইন তথ্য মন্ত্রণালয় করেছে, তারপরও আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবার মতামত নিয়ে যেন আইনটি হয়, সেটি করব। গণমাধ্যম সেক্টর এখন যথেষ্ট পরিপক্ব। এখানে আইন, রেগুলেটরি বডি করার সময় এসেছে। তাই আমি আপনাদের স্বার্থে আইন করার পক্ষে।
আরও পড়ুন: আবার বাড়লো বিদ্যুতের দাম
এ সময় মন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, সম্প্রতি একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মামলা গ্রহণের আগে পুলিশের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, মামলাটি তিনি নেবেন কি না। আমি তখন মতামত দিয়েছি। এটাও একটা অগ্রগতি। আগে পুলিশ মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করতো।
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল অনার্স অ্যাড কোর্স ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, বিজেসির সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ।
একাত্তর/আরএ
