সাংবিধানিক স্বীকৃতি, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ভূমি অধিকারসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী নেতারা। তারা বলেন, আদিবাসীদের পেছনে ফেলে কোনভাবে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বুধবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনায় বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। তাদের ভূমি ও সম্পদের অধিকার হুমকির মুখে। কঠিন সঙ্কটের মধ্যেও এই জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে উত্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে:
আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারসহ আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা। আদিবাসী তরুণ সমাজের নেতৃত্ব বিকাশ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া। আদিবাসী ইস্যুতে অন্যান্য দেশের মতো সরকার, জাতিসংঘ ও আদিবাসী জনগণ–এই ত্রিপক্ষীয় সংলাপের জন্য উৎসাহ ও প্রণোদনা দেয়া। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের ভূমিতে তাদের স্বাধীন সম্মতি ছাড়া ইকোপার্ক, সামাজিক বনায়ন, টুরিজম, ইপিজেড বা অন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করা। আদিবাসীদের ওপর সবধরণের নিপীড়ন, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করাসহ সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র ও আইএলও ১৬৯ নম্বর কনভেনশন অনুসমর্থন ও আইএলও কনভেনশন-১০৭ বাস্তবায়ন করা। জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য বিশেষ কোটা সংরক্ষণ বা আসন বরাদ্দ রাখা। সরকারি প্রথম শ্রেণিতে আগের মতো আদিবাসী কোটা সংরক্ষণ করা। অন্যান্য চাকরিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কোটা যথাযথ বাস্তবায়ন করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদ্যাপন করা।
মূলধারার জনগোষ্ঠীর চেয়ে অধিক সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘জন্ম থেকে শিক্ষা ও কর্মজীবন–প্রতিনিয়তই শিকার হতে হয় অস্বাভাবিক কিছু প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির, যা মানুষ হিসেবে চরম বেদনাদায়ক।’
এবারের আদিবাসী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, 'বিশ্বজুড়ে আদিবাসী জনগণ কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তাদের ভূমি ও সম্পদের অধিকার হুমকির মুখে পতিত, তাদের অধিকার অবদমিত এবং তারা ক্রমাগত বিপন্নতা, প্রান্তিকতা ও বঞ্চনার শিকার। তবে আদিবাসী তরুণরা অধিকার ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম করছে। বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মসূচি আন্দোলনের তারা নেতৃত্ব দিচ্ছে। তরুণরা ন্যায্যতা ও সাম্যের জন্য অ্যাডভোকেসি করছে। তারা নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও উদ্যাপন, মানবাধিকারকে এগিয়ে নেয়া এবং আদিবাসী ইতিহাস ও ইস্যু সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছে।’
একাত্তর/এআর
