তীব্র তাপদাহের কারণে কমছে মানুষের কর্মঘণ্টা। ফলে রাজধানী ঢাকায় বছরে প্রায় ৬শ’ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ বিষয়ক কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
এদিকে দেশে আরও তিনদিনের হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এপ্রিল ও মে জুড়েই চলবে তাপদাহ। মে’র প্রথম সপ্তাহে কিছু পরিমাণ বৃষ্টি হলেও তা উত্তাপ কমাবে না।
তাপদাহের এই পরিস্থিতি যেনো টিকে থাকার যুদ্ধ। গেলো প্রায় ২৬ দিন ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। তাপদাহের সাথে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হয়েছে তাদের।
জীবনযুদ্ধে যারা খোলা আকাশের নিচে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তারা বলছেন এমন পরিস্থিতি তাদের জীবনে কখনও আসেনি।
খাঁ খাঁ রোদ শ্রমজীবী মানুষের শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না। জীবন বাঁচাতেই তাদের কর্মঘণ্টা কমাতে হচ্ছে।

২০২২ সালে এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বছরে গড়ে প্রায় তিন হাজার দু’শ কোটি কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে ঢাকা। ১২ দেশে চালানো জরিপের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।
ওই গবেষণায় আরও বলা হয়, অতি গরমের কারণে ঢাকায় বছরে ৬শ’ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উৎপাদনশীলতা নষ্ট হচ্ছে। যা বার্ষিক শ্রম ক্ষমতার ৮ শতাংশ।
একই বছর প্রকাশিত অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রেজিলিয়েন্স সেন্টারের গবেষণায়ও উঠে এসেছে সমপরিমাণ শ্রম নষ্টের তথ্য।
এই অবস্থায় শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্ম পরিবেশ তৈরি ও কর্মঘণ্টার সময় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, যারা দিন আনে দিন খায়- তাদের সুযোগ কম। আয়ও কমছে অনেকের। তবু, টিকে থাকতে বিরতি বাড়িয়ে দিতে হবে তাদের।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন করে আরও তিন দিনের জন্য হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এপ্রিলের বাকি দিনগুলোতেও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হবে না। মে মাসে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তাপমাত্রা সহনীয় হবার মতো কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আগামী ২ মে সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও সেটি সারাদেশের জন্য নয়।

রোববার গরমে অসুস্থ হয়ে পাঁচ জেলায় ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে যশোর ও চট্টগ্রামে দুই জন স্কুল শিক্ষক, মাদারীপুরে দুই জন, নরসিংদীতে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং কুড়িগ্রামের চিলমারিতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে তাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গরমে পাঁচ জেলায় ছয় মৃত্যু
পাঁচ জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোমবার বন্ধ