জার্মানি ৭-১ ব্রাজিল

ট্র্যাজেডির মতোই যে হার ব্রাজিলিয়ানদের জীবনে গভীর বেদনার প্রতীক!

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১১:১৭ এএম

আজ ৮ জুলাই, একটি তারিখ যা অনেক ব্রাজিলীয় ফুটবলপ্রেমীর মনে বেদনার ছায়া ফেলে, তাদের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে। এই দিনে, ঠিক ১১ বছর আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল নিজ মাটিতে জার্মানির কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ৭-১ গোলের সেই বিধ্বংসী হার কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে এক গভীর ও হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত।

সেদিন বেলো হরিজন্তের এস্তাদিও মিনেইরাও উৎসবমুখর ছিল। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও জার্মানি। স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলকে অনেকেই জার্মানির চেয়ে এগিয়ে মনে করছিল। তাছাড়া, নিজেদের মাঠে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৩৯ বছর ধরে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাসকে আরও উঁচুতে তুলেছিল। তবে উদ্বেগের কারণও কম ছিল না। বিশেষ করে নেইমার ও থিয়াগো সিলভার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল জার্মানির শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে অনেক সমর্থকের মনে ছিল গভীর শঙ্কা।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার আগে থেকেই ৫৮ হাজারেরও বেশি দর্শকের উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়াম যেন কেঁপে উঠছিল। প্রথম কয়েক মিনিটে দুই দলই সমান তালে খেলছিল। ব্রাজিল আক্রমণে উঠতে চেষ্টা করছিল, কিন্তু ১১ মিনিটের মাথায় জার্মানি প্রথম গোলের দেখা পায়। কর্নার থেকে পাওয়া বলে টমাস মুলার জার্মানিকে এগিয়ে দেন। তখনও সবকিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। শুরুতে একটি গোল খাওয়া মানেই তো সব শেষ নয়। ব্রাজিলের কাছে তখনো ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রচুর সময় হাতে ছিল।

এরপর মাত্র ২৯ মিনিটের ব্যবধানে গোল হয় আরো পাঁচটি! সবি জার্মানির! তখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসেই কোনো সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে ৫ গোল হয়নি।

গোলগুলো এত দ্রুত এবং একের পর এক এসেছিল যে টেলিভিশনের সামনে বসা অনেকেই ভেবেছিলেন, এগুলো বুঝি আগের গোলের হাইলাইটস!

সেদিন ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও যদি জার্মানি প্রথমার্ধের মতো একই তীব্রতা ও গতিতে খেলতো, তাহলে ব্রাজিলের হারের লজ্জা আরো গভীর হতে পারতো।

ম্যাচ শেষে জার্মান ডিফেন্ডার ম্যাট হুমেলস বলেছিলেন, আমরা দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে অসম্মান না করা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম!

আজ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রাজিলের ফুটবল-চেতনায় এই হারের ক্ষত এখনো তাজা। কোনো ট্রফি বা জয় হয়তো এই ক্ষতকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারবে না। কারণ, সেই হার কেবল একটি ম্যাচ ছিলো না —তা ছিল একটি জাতির গৌরবের ভাঙন, একটি সংস্কৃতির হৃদয়বিদারক কান্না।

তাই, ৮ জুলাই—মিনেইরাওয়ের সেই কান্না—কখনো থামেনি, আর কখনো থামবেও না।

একাত্তর/আরএ
ফুটবলপ্রেমীদের পকেট ফাঁকা করার মতো এক ‘রসালো’ খবর নিয়ে হাজির হয়েছে বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সদবি’স। ফুটবল সম্রাট পেলের ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিটি নিলামে চড়া...
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন দলের প্রাণভ্রমরা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সেলেসাও সমর্থকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের ভেতরের তীব্র...
ফুটবল দুনিয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চিরবৈরিতা চিরন্তন, যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নয়। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক শত্রুতার দেয়াল ভেঙে এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার প্রশংসায়...
নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায় এবং তার পরপরই বিশ্ব ফুটবল থেকে নেইমারের আকস্মিক অবসরের ঘোষণা, ফুটবল বিশ্বকে একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর