জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ, এখন পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ এটি। ১০ বিলিয়ন ডলারের এই যন্ত্রটি পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে তার মহাজাগতিক পার্কিং স্পটে পৌঁছেছে এবং এতে মহাবিশ্বের রহস্য উদঘাটনে জেমস ওয়েব তার মিশনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) পক্ষ থেকে সোমবার (২৪ জানুয়ারি) জানানো হয়, ইস্টার্ন টাইম দুপুর ২টার (১৯০০ জিএমটি) দিকে অবজারভেটরি ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট বা এল-২ তে পৌঁছানোর জন্য টেলিস্কোপটি তার থ্রাস্টারগুলো পাঁচ মিনিটের জন্য চালু করে।
'থ্রাস্টার' হলো এক ধরণের রকেট ইঞ্জিন, যা জেমস ওয়েবের গতি ঘন্টায় ৩.৬ মাইল (সেকেন্ডে ১.৬ মিটার) বাড়িয়ে দেবে। ফলে টেলিস্কোপটিকে পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে ত্রিমাত্রিক কক্ষপথ 'হ্যালো' এল-২ তে স্থাপন করা সম্ভব হবে।
টেলিস্কোপটি মহাকাশে প্রতিস্থাপনে সাফল্যের ঘোষণা দিয়ে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ওয়েব, ওয়েলকাম হোম!"
এদিকে ওয়েব আগামী গ্রীষ্ম নাগাদ তার বৈজ্ঞানিক মিশন শুরু করবে। হাই রেজুলেশন ইফারেড লাইট ব্যবহার করে বিগ ব্যাংয়ের পরে মহাবিশ্বের ১৩.৫ বিলিয়ন বছর পেছনের দিকে ফিরে তাকাবে এবং প্রথম প্রজন্মের গ্যালাক্সির গঠন প্রক্রিয়ার রহস্য উন্মোচন করবে।
নাসা বলেছে, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এখন পর্যন্ত নির্মিত বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপ। তিন দশক ধরে ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে এটি বানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: একদিনে বিশ্বে আরও সাড়ে ৯ হাজার মৃত্যু, আক্রান্ত ৩২ লাখ
মহাকাশে এমন একটি টেলিস্কোপ পাঠানোর জন্য ২৫ বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলেন বিজ্ঞানীরা। এই টেলিস্কোপ মহাকাশে প্রাণের উৎসের উত্তর খুঁজে এনে দিতে পারে।
নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রামের প্রধান বিজ্ঞানী জেমস ওয়েবের নামে এই টেলিস্কোপের নামকরণ। টেনিস কোর্টের সাইজের এই টেলিস্কোপ মোট চারটি যন্ত্রের সাহায্যে ছবি তুলবে।
একাত্তর/আরবিএস
