কুমিল্লায় এক শতক জমির বিরোধে এক যুবককে কুড়ালে দিয়ে কুপিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ওই যুবকের মাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ মে) দুপুরে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম ইসরাফিল (৩৮)। তিনি ওই গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে।
আহতরা হলেন- মা রিনা বেগম, চাচাতো ভাই রামীম, চাচি আয়েশা বেগম।
স্থানীয়রা আকতার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, ইসরাফিলের বাবা ও পাশের মোক্তল হোসেনের এক শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। দুপুরে মোক্তল হোসেনের ছেলে সজিব, বোন নাসরিন, আইরিন ও মা রহিমা বেগম ওই জায়গায় খড়ের গাঁদা তৈরি করছিলেন। এ সময় ইসরাফিল ও তার ভাই সালমান বাধা দিলে কিছু বুঝে উঠার আগেই মোক্তল হোসেনের ছেলে সজিব ইসরাফিলকে হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করে। ইসরাফিলের চিৎকারে তার চাচাতো ভাই রামীম, মা রিনা বেগম ও চাচি আয়েশা বেগম এগিয়ে এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসরাফিলকে মৃত ঘোষণা করেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রিফাতুল হক বলেন, নিহত ইসরাফিলের ঘাড়ে ও মাথায় ভারি ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আবুল হাশেম সবুজ বলেন, আহত রামীম, আয়েশা বেগম ও রিনা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত ইসরাফিলের চাচাতো ভাই রামীম বলেন, তাদের এই হামলা পরিকল্পিত। তাদের কর্মকাণ্ডে আমরা বাধা এবং পুলিশে খবর দেই। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই ইসরাফিলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সজিব।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসরাফিলের মা রিনা বেগম বলেন, আমি ঘরের বাইরের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি ঘাতক সজিব আমার ছেলেকে কুড়াল ও তার বোনেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে। আমার চোখের সামনে তারা আমার কলিজার টুকরোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে ইসরাফিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী ইসরাফিলের চাচা মোক্তল হোসেন, তার মেয়ে নাসরিন, আইরিন ও মা রহিমা বেগমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রীকে চতুর্থ বিয়ের চেষ্টা, ৩২ বছরের বর কারাগারে
কনকাপৈত ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল বলেন, ওই জমি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে একাধিকবার সালিশ সভা হয়। মোক্তল হোসেন সালিশ অমান্য এবং নকল দলিল সৃষ্টি করেন। বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিষয়টি প্রেরণ করি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, লাশ উদ্ধার শেষে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মোক্তল হোসেন, তার স্ত্রী ও মেয়েসহ চারজনকে আটক করি। এছাড়া প্রধান অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একাত্তর/এসি
