১১ বছর পর আগামী ১৫ জুন (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ইউনিয়নের চায়ের দোকানে আর হাটবাজারে ভোটের আড্ডায় জমে উঠেছে আলোচনা। প্রার্থীর ভালো-মন্দের বিশ্লেষণের ঝড় ভোটারদের মধ্যে।
আলোচনায় অনেকই বলছেন, ‘সব প্রার্থীই চেনা-জানা। ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ভোট চাচ্ছেন। না বলো কারো মন খারাপ করা যায়না, ভোটতো একটাই। ভেবে-চিন্তে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেব আমরা।’
সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের প্রদীপের মোড়ের বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে ভোটের আড্ডা।
ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম (৪৫) সেখানে বলেন, ‘ইউনিয়নের হাট-বাজারে চা খাওয়াচ্ছে মেম্বার-চেয়ারম্যান-প্রার্থীরা। না খেলে মনে করে ভোট দিবো না। সবারটা খেয়েছি, কিন্তু ভোট দিবো একজনকে। যোগ্য দেখে ভোট দিবো।’
ওই বাজারের আরেক আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন একই গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক আল-আমিন (৩০)। তিনি বলেন, ‘হামেরা ভোট দিমো যোগ্য প্রার্থী বাছাই করি। শ্যাষ সময়োত সবাই পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে যুক্তি তুলেছে।’
আমিরুল ইসলাম (৬০) বলেন, ‘এলাকার ভোটারতো বহুমুখী। কারো কথা কাহো বুঝিবার পারেছে না। প্রার্থীর দোষগুণতো থাকিবে, এর মধ্যে একজনকে বাইছাই করি নিবে ভোটার।’
এসব আড্ডায় ইভিএম ছিল আলোচনার একটি অংশ। প্রথমবারের ন্যায় ইউনিয়নটিতে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে নানানজনের নানান কৌতূহল, অনেক প্রশ্ন।
যুবক তাপস রায় (২৫) বলেন, ‘প্রথমবার ইভিএমে ভোট হওয়ায় এলাকার মানুষ একটু চিন্তায় আছে। আজ (সোমবার) বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওই মেশিনে ভোট দেওয়া দেখানো হয়েছে। এতে করে অনেকটা ভীতি কমেছে। আমি নিজেও সেটিতে পরীক্ষামূলক ভোট দিয়ে বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা খুব সহজ।’
ওই বাজারের ব্যবসায়ী প্রদীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘ব্যালটে ভোট গণনায় অনেক রকম কারচুপির ঘটনা ঘটে। কিন্তু ইভিএম যন্ত্রে ভোটের হিসাবের কোন কারচুপির সুযোগ আমি দেখছি না। পরীক্ষামূলক (মগভোটিং) ভোট দিয়ে আমার কাছে খুব সহজ মনে হয়েছে।’
আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শশধর রায় (টেবিল ফ্যান)। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। ১৫ জুন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। ইভিএমে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ আছে বলে আমার জানা নেই। আমি ইভিএম সমর্থন করি।’
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তহিদুল ইসলামের (মোটরসাইকেল) মেয়ে তানহা ইসলাম (২৫) বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা করছি। আমার বাবার পক্ষে আমি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’
ইউনিয়নটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১১ বছর পর। নির্বাচনী তফসীল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গত ১৭ মে। সেখানে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৯ জন। সকল আড্ডার আলোচনায় চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা শোনা যাচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আফতাব উজ্জামান বলেন, ‘সর্বশেষ ধাপে ১৫ জুন খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ইভিএম যন্ত্রে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট-গ্রহণ করা হবে। ৯টি ওয়ার্ডে ১০টি ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে। ১০ কেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ৭০টি। সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচনী এলাকায় ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনছার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।’
তিনি জানান, চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রশান্ত রায় (নৌকা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাইমুর রহমান (হাত পাখা), স্বতন্ত্র মো. মাসুদ রানা মাসুম (টেলিফোন), শশধর রায় (টেবিল ফ্যান), মো. তহিদুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (ঘোড়া), মো. মাসুদ রানা সাবদের (আনারস), মো. আশাফউদ্দৌলা সিদ্দিকী (চশমা), পঙ্কজ কুমার রায় (অটো রিকশা)।
এ ছাড়া ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৪০ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৮০১ জন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৫ জুন ইউনিয়নটিতে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ২০১৬ সালের মধ্য সময়ে মেয়াদ শেষ হয়।
আরও পড়ন: রাজধানীতে স্বামীর হাতে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক খুন
২০১৫ সালে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি, ইটাখোলা, কুন্দপুকুর ও টুপামারী ইউনিয়নের কিছু অংশ নীলফামারী পৌরসভায় সংযুক্ত করে গেজেট প্রকাশ হয়। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি মামলা হলে পৌরসভাসহ ওই চার ইউনিয়নের পরবর্তী নির্বাচন স্থগিত থাকে।
এরই মধ্যে সীমানা জটিলতা নিরসন হওয়ায় ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর টুপামারী, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর নীলফামারী পৌরসভা, ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইটাখোলা ও কুন্দপুকুর ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হলেও নির্বাচনী তফসীল থেকে বাদ পড়ে খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন।
একাত্তর/আরএ
