বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চতুর্থ ও চারদিনের ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে এ সফরের গুরুত্ব ও অর্জনের নানাদিক নিয়ে আলোচনার জন্য একাত্তরের নিয়মিত আয়োজন একাত্তর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী, বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর ও বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী।
মঙ্গলাবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক জুলহাজ নূর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে মনে করিয়ে দেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভারতকে আরও উদার হতে হবে।
দিল্লির কাছে এবারের সফর কোথায় আলাদা- জুলহাজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী বলেন, এবারের এই সফর গত বছরের অনেকগুলো উদযাপনের পর। মুজিববর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর, ভারতের ৭৫ বছর- বাংলাদেশ ভারতের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদযাপন দুই দেশকে একসাথে দেখা গেছে যাতে এটা সুস্পষ্ট যে দুই দেশের সম্পর্ক এখন অনেক পরিণত। এমন একটা সময়ে এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেন তিনি।
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের যে বল চালাচালি করে সময় ক্ষেপণ তা ভারতের কৌশল কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য ভারত অনেকদিন আগেই তৈরি ছিলো। কিন্তু ভারতের ফেডারেল সরকার ব্যবস্থায় রাজ্য ও কেন্দ্রে আলাদা আলাদা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায়। রাজ্য ও কেন্দ্রের স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর পরই কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে বিলম্বের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অনেকবার আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু এটা এমন একটা জায়গা যেখানে আগে ভারতকেই নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।
তিস্তা ছাড়াও বাকি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ৫৩ নদনদীর বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতমাসেই ১২ বছর পর যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছে। আজ কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে।
১৯৯৬ সালের গঙ্গাচুক্তির দুই যুগেরও বেশি সময় পর এবারই আরেকটি পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো উল্লেখ করে তিনি জানান, এটাকে তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন।
রিভা গাঙ্গুলী বলেন, এছাড়াও যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে বন্যার তথ্য, নদীতীর রক্ষা প্রকল্প, পানি দূষণ ইত্যাদি নানা বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে যা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেন, সম্পর্ক পরিণত হলে পরস্পরের কাছ থেকে প্রত্যাশাও বাড়ে। ভারতের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে। সীমানা চিহ্নিতকরণ, ছিটমহল ইস্যুগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সুরাহা হয়েছে। কিন্তু আন্তঃনদীর পানি বণ্টন নিয়ে সেরকম কোনো অগ্রগতি নেই। ১২ বছর যৌথ নদী কমিশনের কোনো বৈঠকও বসেনি।
বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আগে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দুশ্চিন্তার মেঘ ছিলো, তা এখন নেই। ফলে আস্থার ভিতর দিয়ে একে অপরের সমস্যার সমাধান করতে পারবো বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একাত্তর/জো
