ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন হয় আজ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩২ এএম

ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল আজ। ১৯৭১ সালের এদিন মানুষের প্রতি মমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

১০ এপ্রিল পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি গোপন স্থানে মিলিত হয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। 

পরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী সংগঠন ও সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং নয় মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এই বিপ্লবী সরকারই। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে দিয়েছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা। ২৫ মার্চ রাতে মুক্তিকামী বাঙালীদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। 

সেই রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতারের আগে ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাঙালি শুরু করে প্রতিরোধ। শুরু হয় যুদ্ধ।

সরকার গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (প্রোক্লেমেশন অব ইন্ডিপেন্ডেস) পাঠ করা হয়। এদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকেও অনুমোদন করা হয়। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

ঘোষণায় বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ৱশেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপতি থাকবেন। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমেদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ভাষণ দেন।

প্রথম সরকার গঠনের ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল ৬ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম এবং মন্ত্রীদের মাঝে দফতর বণ্টন করা হয়। ১৪ এপ্রিল কর্নেল এমএজি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

প্রথমে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী জেনে যাওয়ায় ১৭ এপ্রিল বর্তমানের মুজিবনগর তখনকার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, কূটনৈতিক ও প্রচার ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল অস্থায়ী এই সরকার। মুজিবনগর সরকার সফলতার সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। 

এই সরকারের দক্ষতার ফলেই মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ হানাদার পাকিস্তানীদের দখলমুক্ত হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। তাই ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয়, অমলিন একটি দিন।


একাত্তর/এসি


মেহেরপুরের আম্রকাননে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৯টা...
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকার পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার দিন ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বুধবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চির...
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাতটা পাঁচ মিনিটে রাজধানীর...
জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া অভূতপূর্ব বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের দায় সরাসরি অভিবাসীদের ওপর চাপিয়ে ফের চরম বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের...
বর্তমান সরকার দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে সাথে নিয়ে এক ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায় বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে, সরকার যখন সবাইকে সাথে নিয়ে...
আগামী ২৬ অক্টোবর সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্ব এশিয়ার এই পরাশক্তির সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের সুদৃঢ় সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতেই প্রধানমন্ত্রীর...
হাড় ক্ষয়জনিত জটিল রোগ অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সুফল সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ৬৪ জেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর