বিএনপি নেতাদের কটাক্ষের জবাব দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের জন্য স্বস্তি ও স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর। অথচ আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি দেশের অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে আগুন সন্ত্রাসের ষড়যন্ত করছে। যারা সমালোচনা করে তারা হিংসার আগুনে জ্বলছে।
সোমবার বিকেলে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে শ্রমিক লীগের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বরাবরই কৃষক-মজুর-কর্মচারীদের র্সবোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। মে দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় শ্রমিক লীগের আলোচনা সভায় সেই কথাই উঠে আসে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে। উঠে এসেছে সমকালীন রাজনীতিও।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা সবসময় চান বাংলাদেশ কখনো সংকটে না পড়ুক। এ দেশের মানুষের শান্তির জন্য তিনি বিদেশ সফর করছেন। তিনি তাঁর দেশ বিক্রি করতে বিদেশে যাননি, গিয়েছেন দেশের উন্নয়নের জন্য। বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে আছেন। সফর প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই সফরের গুরুত্ব যারা বুঝবে না তারাই সম্পর্কে নিয়ে কটাক্ষ করে।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করতে যাননি, গিয়েছেন দেশের উচ্চতা বাড়াতে। আগামী বাজেটের জন্য সহযোগিতা চাইতে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে যারা কষ্ট পাচ্ছে তাদের জীবন বাঁচাতে গিয়েছেন। তিনি বিদেশে গেছেন দেশের সাধারণ মানুষ আজকে যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে কষ্ট পাচ্ছে, এই সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে।
তিনি আরও বলেন, যারা এই সফরের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে কিছু বলার নেই। তারা হিংসার আগুনে জ্বলে। পদ্মা সেতুর জ্বালা, মেট্রোরেলের জালা, বঙ্গবন্ধু টানেলের জ্বালা, ১০০ সেতুর জ্বালা, ১০০ রাস্তার জ্বালা তাদের। যারা সমালোচনা করে তারা হিংসার আগুনে জ্বলছে। মানুষ যদি শান্তিতে থাকে বিএনপির মনে কষ্ট হয়। জ্বালা হয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা। তাদের আন্দোলন মানুষ বুঝে গেছে। এসব ভুয়া, ২৭ দফা ভুয়া। যারা গণ আন্দোলনই করতে পারেনি তারা গণঅভ্যুত্থান কীভাবে করবে। বিএনপি আন্দোলনে পরাজিত। নির্বাচনে এলে দেখা যাবে কত ধানে কত চাল। সিটি নির্বাচনেও দেখবেন ঘোমটা পরা প্রার্থী। বাইরে দেখাবে তাদের প্রার্থী নেই, তলে তলে থাকবে তারেক জিয়ার প্রার্থী।
ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতির পর বিএনপির এখন টার্গেট দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা। অর্থনীতির চাকা বন্ধ করতে তারা নব নব কৌশলে নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করছে। আগুন লাগাতে হবে, লুটপাট করতে হবে- এটাই বিএনপির স্বভাব। অর্থপাচারকারী লুটেরাদের হাতে দেশের ক্ষমতা জনগণ দিবে না। এই দেশে মানুষ তারেক রহমানের মত অর্থপাচারকারীদের হাতে ক্ষমতার পতাকা তুলে দিবে না।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১৮
এ সময় দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় করতে হবে। শেখ হাসিনা উন্নয়ন করছেন, আপনারা জনগণের সাথে ভালো আচরণ করবেন। মানুষকে যদি অসন্তুষ্ট করেন তারা ভোটের সময় জবাব দিবে। তাই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া যাবে না। সন্ত্রাসী, অর্থ পাচারকারী-লুটেরাদের কোন জায়গা নেই আওয়ামী লীগে। বিদ্রোহীদের বিষয়েও আগের মতোই কঠোর থাকবে দল।
এছাড়া, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এই ঈদে কোনো পথেই অশান্তি নেই। সব মানুষ শান্তিতে বাড়ি ফিরেছে। মানুষ যদি শান্তিতে থাকে বিএনপির মনে কষ্ট লাগে। বাংলার মানুষ ভালো আছে, আর বিএনপির মন খারাপ। বিএনপি পথহারা, দিশেহারা, ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’ দশা। বিএনপি রাজনীতিতে পরাজিত, আন্দোলনে পরাজিত, নির্বাচনেও পরাজিত হবে।
জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরুসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
একাত্তর/আরবিএস
